৭০০ বছরের পুরানো গাইবান্ধার ‘গায়েবি’ মসজিদ ঘিরে যত রহস্য

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় শত শত বছরের পুরানো একটি মসজিদ ঘিরে মানুষের মাঝে রয়েছে নানা কৌতূহল। ‘গায়েবি মসজিদ’ বা ‘জামালপুর শাহী মসজিদ’ নামে পরিচিত প্রাচীন এই স্থাপনাটি ঠিক কবে বা কীভাবে নির্মিত হয়েছে, তার সঠিক ইতিহাস কেউ জানেন না। তবে লোকমুখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মসজিদটি নিয়ে নানা অলৌকিক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে।সাদুল্লাপুর উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত জামালপুর গ্রামে এর অবস্থান। মসজিদের সামনে রয়েছে একটি বিস্তীর্ণ মাঠ এবং পেছনে একটি পুকুর। মসজিদটি এখন বাইরে থেকে দেখতে বড় মনে হলেও এর মূল ভবনটি ছিল বেশ ছোট। পুরানো ওই অবকাঠামোটিতে ছোট ছোট ইট ও চুন-সুরকির মজবুত গাঁথুনি ব্যবহার করা হয়েছে।  কয়েক শত বছর আগের তৈরি হলেও গোটা মসজিদজুড়ে রয়েছে নান্দনিক সব কারুকাজ। তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের দুই পাশে দুটি ছোট জানালা এবং ৫ ফুটের চেয়ে কিছুটা উঁচু তিনটি দরজা রয়েছে।  মূল মসজিদে দুই কাতারে একসঙ্গে ৮০ জন মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এলাকার লোকজন মূল অবকাঠামো ঠিক রেখে এর সাথে তিনতলা বিশিষ্ট নতুন ভবন তৈরি করেছেন। ফলে ৮০ জনের স্থলে বর্তমানে সম্প্রসারিত মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় দুই হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে অবস্থিত শত বছরের পুরোনো জামালপুর শাহী মসজিদের বর্তমান সম্প্রসারিত বহুতল ভবনের দৃশ্য। ছবি: সময় সংবাদ শত শত বছরের পুরানো এই মসজিদ কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা কেউ জানেন না। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে অনেকেই শুনেছেন, এটি একটি ‘গায়েবি’ মসজিদ।  স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, একসময় এই এলাকায় কোনো জনবসতি ছিল না, চারপাশ ঘন জঙ্গলে ভরা ছিল। হঠাৎ কোনো এক রাতে এই মসজিদটি অলৌকিকভাবে তৈরি হয় এবং পাশে একটি পুকুর সৃষ্টি হয়।  আবার অনেকের মতে, ঘন জঙ্গলের ভেতরে একটি বিশাল বটগাছ ছিল। হঠাৎ একদিন প্রচণ্ড ঝড়ে বটগাছটি ভেঙে পড়লে স্থানীয় মানুষ গাছের নিচে একটি মসজিদ দেখতে পান। সেই থেকে মানুষ এটিকে গায়েবি মসজিদ হিসেবে অভিহিত করতে থাকেন। আরও পড়ুন: ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির প্রতীক খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদ জনশ্রুতি আছে, গাছের নিচ থেকে মসজিদটি উদ্ধারের কিছুদিন পর সিলেট থেকে আগত কামেল পুরুষ হজরত শাহ্ জামাল (রহ.) সপরিবারে ওই এলাকায় আসেন। তিনি মসজিদটির দেখাশোনা শুরু করেন। সেই থেকে মসজিদটির নামকরণ হয় ‘জামালপুর শাহী মসজিদ’।  আবার লোকমুখে আরও প্রচলিত আছে, তৎকালীন সময়ে সৈয়দ ভোম আলী ভারতের শিলিগুড়ি থেকে সুলতান মাহমুদের আমলে হজরত খাজা মঈন উদ্দিন চিশতির নির্দেশে ইসলাম প্রচারের জন্য এই এলাকায় এসে হজরত শাহ জামালের সঙ্গে মিলিত হন। তারাই এই মসজিদ নির্মাণ করেন। এই হিসেবে মসজিদটি প্রায় ৭০০ বছর আগে নির্মিত। জামালপুর শাহী মসজিদের ভেতরের দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ ও খিলান। ছবি: সময় সংবাদ পরবর্তী সময়ে হজরত শাহ জামালের নামানুসারে ইউনিয়ন ও গ্রামের নামকরণ করা হয় জামালপুর। মসজিদের উত্তর পাশে পীরে কামেল হজরত শাহ জামাল (রহ.)-এর মাজার শরিফ রয়েছে। জামালপুর শাহী মসজিদের মোয়াজ্জিন হাফেজ মো. শামীম কবির জানান, মসজিদকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা।  অনেকের ধারণা, মসজিদটিতে এসে যেকোনো নিয়তে মান্নত করলে তা পূরণ হয়। মসজিদের পাশের কূপের পানি খেলে বিভিন্ন রোগব্যাধি সারে বলেও মানুষের বিশ্বাস রয়েছে।  প্রতিদিনের পাশাপাশি সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার এখানে বিশেষ নিয়তে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন।