চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আলোচিত ইরার নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনোভাবে মেনে নিতে পারছেন না বিক্ষুব্ধ জনতা। তাই আসামি বাবু শেখকে ছিনিয়ে নিতে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন তারা। ‘তল্লাশি’ চালিয়েছেন পুলিশের কয়েকটি গাড়িও।আসামি গ্রেফতারের খবরে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমির এলাকায় অবস্থান নেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ মানুষ রাস্তায় অবস্থান করেন। অনেকের হাতে লাঠিসোটা দেখা যায়। ফলে মহাসড়কে চলাচল করা গাড়ি চালক ও যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুলিশের কাছ থেকে ইরা হত্যার আসামিকে ছিনিয়ে নিতে এই অবস্থান তাদের। পুলিশের বেশ কয়েক গাড়িও খুঁজে দেখেন জনতা। কিন্তু অভিযুক্ত আসামিকে খুঁজে না পেয়ে কয়েক ঘণ্টা পর ফিরে যান যে যার মতো। বিক্ষুব্ধ মানুষ বলছেন, একটি শিশুর সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে শিশু ইরাকে গলা কেটে হত্যা, প্রতিবেশী গ্রেফতার এ বিষয়ে জানতে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। গত রোববার (১ মার্চ) সীতাকুণ্ড পৌর সদরের ইকোপার্কের একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশু ইরাকে উদ্ধার করা হয়। চন্দ্রনাথ মন্দির সড়কের সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা তাকে প্রথম দেখতে পান এবং দ্রুত উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ওই রাতেই শিশুটির গলায় জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সোমবার (২ মার্চ) শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত ১ মার্চ রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।