মুঠোফোনে স্বামীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

চাঁদপুরে স্বামীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা কাটাকাটির পর ফারজানা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও যৌতুকের চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি এ পথ বেছে নেন।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের দফাদার বাড়িতে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ফারজানা ওই এলাকার আব্দুর রহমানের বড় মেয়ে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় আট মাস আগে পারিবারিকভাবে পাশের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের শাহাজান কবিরাজ বাড়ির মমিন গাজীর সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর স্বামী তাকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে দেন এবং তার কোনো খোঁজখবর নিতেন না। পাশাপাশি শাশুড়ি ও স্বামী যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। এদিকে, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে স্বামীর সঙ্গে তার মুঠোফোনে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরপর নিজ ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন ফারজানা। মৃতের বাবা আব্দুর রহমান জানান, বিয়ের আট মাসের মধ্যে প্রায় পাঁচ মাস তার মেয়েকে বাবার বাড়িতে রাখা হয়। এ সময় মেয়ের স্বামী ফারজানার কোনো খোঁজ নেননি। আরও পড়ুন: চিরকুটে ‘আই লাভ ইউ হারুন’ লিখে ফেসবুক লাইভে প্রাণ দিলেন তরুণী তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বামী ও শাশুড়ি যৌতুকের জন্য চাপ দিতেন এবং মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। ঘটনার কয়েক মিনিট আগেও মেয়ের সঙ্গে স্বামীর মুঠোফোনে কথা হয়েছিল। খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোখলেসুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচিয়ে তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ জানান, গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটু নজর দিন আপনি যদি কখনো মনে করেন, জীবন অসহনীয় হয়ে উঠছে, জেনে রাখুন— আপনি একা নন। সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়, বরং সাহসের কাজ। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, বিশ্বস্ত বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন। যেটা এখন মনে হচ্ছে, তা সাময়িক— সময়, সহায়তা ও কথা বলার মাধ্যমে অনেক কিছু পরিবর্তন সম্ভব। জীবন মূল্যবান এবং এখনও অনেক সুন্দর মুহূর্ত বাকি আছে। আপনি যদি মানসিক চাপে বা আত্মহত্যার চিন্তায় ভুগে থাকেন, অনুগ্রহ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, কাউন্সেলর বা হেল্পলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সাহায্য চাইতে কখনো দ্বিধা করবেন না। এ বিষয়ে জরুরি পরামর্শ দেয় ‘কান পেতে রই’। হেল্পলাইন নম্বর: 01779-554391 এবং 01688-709966। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত হেল্পলাইনে কথা বলতে পারবেন যে কেউ।