ইরান-ইসরাইল চলমান উত্তেজনার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সস্তা ড্রোন বনাম ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের অসম লড়াই। ইরানের একেকটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয়েছে মাত্র ৩৫ হাজার ডলার। বিপরীতে এটি ধ্বংস করতে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে ৫ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত। এপিক ফিউরি হামলার প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই প্রায় ৭০ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে।অপারেশন এপিক ফিউরি নামে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্যয় নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। হামলার প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭০ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে বলে অনুমান। হামলার আগে বিমান ও নৌবহর পুনর্বিন্যাসসহ সামরিক প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায় এসব তথ্য। এদিকে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, ইরানের একেকটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ৩৫ হাজার ডলার। বিপরীতে এটি ধ্বংস করতে একেকটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে ব্যয় হচ্ছে ৫ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যয়ের বৈষম্যই ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সুবিধা হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আরও পড়ুন: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হলেন খামেনির ছেলে গণমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের কাছে বিভিন্ন ধরনের ড্রোনের মজুত রয়েছে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত। মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা বিবেচনায় নিলে তারা দীর্ঘ সময় ধরে হামলা অব্যাহত রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি ইন্টারসেপ্টরের দাম প্রায় দেড় কোটি ডলার এবং পুনরায় উৎপাদনে সময় লাগে কয়েক বছর। এমন পরিস্থিতিতে কম খরচের বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্পমূল্যের গাইডেড রকেট এবং ইসরাইলের আইরন বিম লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা প্রতি শটে খুব কম খরচে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে।