স্পিকার ও রাষ্ট্রপতি পদে কারা, বিএনপিতে আলোচনা

প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় বুধবার (৪ মার্চ) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। আঞ্চলিক যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্য - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংঘাত তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক সংকট বাড়ছে। ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধ এখন শুধু তেহরানে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন পুরো অঞ্চলকে তাতিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন স্থাপনা, দূতাবাস ও ঘাঁটিগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে তেহরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি দেশ গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এসব দেশ থেকে নিজ নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর অর্থ ইরানে হামলার তীব্রতা বাড়ানোর চিন্তা করছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রেক্ষিতে অন্য দেশগুলোতে ইরানের হামলা জোরদার করার শঙ্কা করছে মার্কিন প্রশাসন।   মঙ্গলবার সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও জর্ডানের মার্কিন দূতাবাসগুলোতে কঠোর হামলা হয়েছে। এতে রিয়াদ, জেদ্দা, কাতার ও কুয়েতসহ বেশ কয়েকটি দেশের ভিসা সেবা স্থগিত করা হয়েছে। নাগরিকদের দূতাবাস এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের এমন হামলার কঠোর জবাব দেয়ার কথা জানিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর সংস্থা গাল্‌ফ কো-অপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসি। হামলা অব্যাহত থাকলে যুদ্ধে সক্রিয় হওয়ার হুমকি দিয়েছে দেশগুলো। চতুর্থ দিনে ইরানে হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে। তেহরানসহ কারাজ ও কোমে প্রথম দুইদিনের তুলনায় বোমা বর্ষণের শব্দ বেশি শোনা গেছে। নিহত ৭৫০ ছাড়িয়ে গেছে। আহত হয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ। চাকরি-ভিসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রবাসীরা - দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত খবর এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শত শত মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিশ্চয়তায় পড়তে দেখা যায়। কেউ ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কেউ আবার নতুন কোনো ঘোষণা শোনার আশায় দীর্ঘ সময় ধরে টার্মিনাল ভবনে অপেক্ষা করছেন। যাত্রীরা জানায়, বাতিল হওয়া ফ্লাইট কবে নাগাদ চালু হবে-এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। ফলে উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তায় তাদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে। চার দিনে মধ্যপ্রাচ্যগামী শত শত যাত্রী একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। কেউ রাত কাটিয়েছেন বিমানবন্দরের মেঝেতে, কেউ হতাশ হয়ে ফিরেছেন বাড়িতে। কর্মস্থলে সময়মতো ফিরতে না পারার শঙ্কা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাই এখন তাদের নিত্যসঙ্গী।   যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্য। উত্তেজনার জেরে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ। হামলার প্রথম দিন শনিবার বিকাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হতে থাকে। কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহর ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামের ফ্লাইট চালু আছে।সংকটেও বড় ঘাটতি বাজেটের পথে সরকার - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া জনবান্ধব অঙ্গীকার পূরণের কাজ শুরু করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রয়োজন বিপুল অর্থ। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, রাজস্ব আয়ের শ্লথগতি, আইএমএফের কঠোর শর্ত পূরণের চাপ বাজেট প্রণয়নে সরকারকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই প্রত্যাশা ও বাস্তবতার টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্কের ঘাটতি বাজেট পেশের মাধ্যমে সমাধানের পথে হাঁটতে যাচ্ছে সরকার।  অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার আট লাখ ৪৮ হাজার থেকে সাড়ে আট লাখ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার হতে পারে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।সরকারি ব্যয়ের ৫৮ শতাংশই বেতন, সুদ ও ভর্তুকিতে - দৈনিক সমকালের প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে মোট ব্যয় হয়েছে দুই লাখ ৫৮ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন, বিভিন্ন ভর্তুকি এবং ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৫৮ শতাংশের বেশি।  অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য রয়েছে। নির্বাচিত সরকারকে অর্থবছরের বাকি সময়ে এই হিসাবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অর্থবছরের ছয় মাসে সার্বিক বাজেট বাস্তবায়ন দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬৮ শতাংশে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল প্রায় ২৮ শতাংশ। বাজেট বাস্তবায়নের হার বেড়েছে পরিচালন ব্যয়ের কারণে। উন্নয়ন ব্যয়ের হার খুবই কম।স্পিকার ও রাষ্ট্রপতি পদে কারা, বিএনপিতে আলোচনা - দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার সংবাদ এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন সরকারের বয়স ১৫ দিন পার হলো। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সিদ্ধান্ত-রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে কে আসছেন। এ নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে।  দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্র ও সংসদের শীর্ষ পদগুলোতে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মুখ বসাতে চাইছে দলটি। বিএনপির ভেতরে আলোচনা রয়েছে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর নাম।আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতির আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে দুই দশক ধরে হাঁটছে বাংলাদেশ - দৈনিক বণিকবার্তার প্রথম পাতার সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি বছর প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার জ্বালানি পণ্য আমদানি হচ্ছে। এর মধ্যে আছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), পরিশোধিত-অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, এলপিজি ও কয়লা। প্রায় এক দশক ধরে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, আমলা ও একশ্রেণীর ব্যবসায়ীর যোগসাজশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।  দেশে গ্যাস খাতে অনুসন্ধান, উত্তোলনে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা হয়নি। সেই সঙ্গে জ্বালানি খাতের মজুদ, টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের গড়িমসি ছিল। এভাবে আওয়ামী আমলে জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা অতিমাত্রায় বাড়িয়ে তোলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি খাত দিন দিন ঋণ ও দায়দেনায় জর্জরিত হয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোয় বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধ-সংঘাত পরিস্থিতির কারণে আমদানি তথা দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কানাডার ‘বেগমপাড়ায়’ ঢাকা ওয়াসার এমডির স্ত্রীর নামে বাড়ি - দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রকাশিত আরেকটি সংবাদ এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারীর পরিবারের কানাডায় বাড়ি রয়েছে। ২০১৮ সালে আব্দুস সালাম ব্যাপারী ও তাঁর স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার নামে বাড়িটি কেনা হয়। ২০২৩ সালে বাড়িটির মালিকানার অংশ থেকে আব্দুস সালামের নাম বাদ দিয়ে তাঁর এক ছেলের নাম দেওয়া হয়। পরে পুরো মালিকানা স্থানান্তর করা হয় তাঁর স্ত্রীর নামে।  অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে আব্দুস সালামকে বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে তিনি ছিলেন একই সংস্থার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। এ পদে চাকরিকালে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এবার কানাডায় তাঁর স্ত্রীর নামে বাড়ির খোঁজ পাওয়া গেল।