পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। বুধবার (৪ মার্চ) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন এই কূটনীতিক জানান, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ভালো হয়েছে। বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা পল কাপুরের কাছে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চান। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি ‘আকসা’ (একুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট) এবং সামরিক গোপন তথ্য বিনিময় সংক্রান্ত ‘জিসোমিয়া’ (জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তবে এসব প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব না দিয়ে শুধুমাত্র ‘বৈঠক ভালো হয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন। এর আগে সকাল পৌনে ৯টায় তিনি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান এবং প্রথমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এরপর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এসব বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক সমঝোতা, বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন, রোহিঙ্গা সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো প্রাধান্য পেয়েছে। দুই দিনের সফরে গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় আসা পল কাপুরের আজ অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটবে। সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি আজ অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও পৃথক বৈঠকে অংশ নেবেন। এছাড়া আজ বুধবার সন্ধ্যায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তার একটি বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সফরের শেষ দিন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে পল কাপুর প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও তার মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে। সফরের শেষ কর্মসূচি হিসেবে আগামীকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইফতার পার্টিতে যোগ দেবেন তিনি। এর আগে ঢাকা মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া। জেপিআই/এসএনআর