বার্সেলোনার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেও কোপার ফাইনালে অ্যাটলেটিকো

প্রথম লেগেই অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ৪-০ গোলের ব্যবধানে হেরেছিল। মঙ্গলবার রাতে কোপা ডেল রে সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনা চেষ্টা করেছিল সেই ৪ গোলের গ্যাপ পূরণ করতে। খেলেছিলোও তারা বেশ। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৩-০ গোলে জয়ও পেয়েছিল কাতালানরা। কিন্তু প্রথম ম্যাচের গোলের ব্যবধান আর ঘোচাতে পারলো না তারা। যার ফলে বার্সার কাছে বড় ব্যবধানের হেরেও কোপা দেল রে’র ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের টিকিট নিশ্চিত করেছে দিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা। ফেব্রুয়ারিতে প্রথম লেগে ৪-০ গোলের বড় জয় পেয়েছিল অ্যাটলেটিকো। ফলে দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনার সামনে ছিল কঠিন সমীকরণ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কাতালানরা। তবে ১৩ মিনিটেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন হুলেস কুন্দে, যা বার্সার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। তবুও আক্রমণের ধার কমেনি। রাফিনহার নিচু শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে যায়, ফেরান তোরেসের শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। লামিনে ইয়ামালের দারুণ ক্রস থেকে সুযোগ পেলেও তোরেস বল জালে জড়াতে পারেননি। পরে ইয়ামালের দূরপাল্লার শটও ঠেকান অ্যাটলেটিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুসো। অবশেষে ২৯ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় বার্সা। লামিনে ইয়ামালের নিচু ক্রস থেকে একদম ফাঁকায় থাকা মার্ক বার্নাল প্রথম ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান। বিরতির ঠিক আগে পেদ্রি বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। যোগ করা সময়ে স্পট-কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন রাফিনহা। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। আঁন্তোনিও গ্রিজম্যান একবার বল জালে জড়ালেও অফসাইডের পতাকা ওঠে। অন্যদিকে হুলিয়ান আলভারেজ ও গ্রিজমানের প্রচেষ্টা রুখে দেন হুয়ান গার্সিয়া। রাফিনহার ফ্রি-কিকও মুসো দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেন। ৭২ মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন বার্নাল। হোয়াও ক্যানসেলোর ক্রস থেকে দারুণ ভলিতে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি, তাতে দুই লেগের ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-৩। অ্যাটলেটিকোর লিড তখন মাত্র এক গোল। শেষদিকে বার্সা সর্বশক্তি দিয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায়। জেরার্ড মার্টিনের শট উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে, ইয়ামালের বাঁকানো শটও লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। যোগ করা সময়ে আলেক্সান্ডার সোরলথ পাল্টা আক্রমণে সুযোগ পেলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত চাপ সামলে ৪-৩ অ্যাগ্রিগেট জয় নিশ্চিত করে অ্যাটলেটিকো। ম্যাচ শেষে গোলরক্ষক হুয়ান মুসো বলেন, ‘এটি হয়তো আমাদের সেরা ম্যাচ ছিল না, কিন্তু এটি ছিল ১৮০ মিনিটের লড়াই। তারা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে, আমরাও প্রয়োজনমতো কষ্ট করেছি। সহজ হবে না জানতাম, তবে শেষ পর্যন্ত আমরা ফাইনালে।’ অন্যদিকে রাফিনহা বলেন, ‘৪-০ ব্যবধান ঘোচানো সহজ নয়, তবে আমরা শুরু থেকে সবকিছু দিয়েছি। আমরা হতাশ, কারণ আমরা ফাইনালে যেতে চেয়েছিলাম এবং আমাদের খেলায় সেটির প্রাপ্যতা ছিল।’ আগামী ১৮ এপ্রিল কোপা ডেল রে’র ফাইনালে অ্যাটলেটিকো মুখোমুখি হবে রিয়াল সোসিয়েদাদ বা অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের। শিরোপা জয়ের আর মাত্র এক ধাপ দূরে সিমিওনের শিষ্যরা। আইএইচএস/