ফ্যামিলি কার্ডে নতুন স্বপ্ন বুনছে স্বল্প আয়ের মানুষ

স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিএনপি সরকারের ফ্যামিলি কার্ড। আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে একেকজন সুবিধাভোগী প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা পাবেন।বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। সেই সময় বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান ৪ কোটি পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতা নেয়ার পর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষকে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ঈদের আগে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৪ উপজেলায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই চলছে, যেখানে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে সুবিধাভোগীর তালিকায় আছেন রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দারাও। নিত্যদিনের খরচ মেটাতে হিমশিম খাওয়া মানুষের কাছে এই কার্ড যেন এক ‘সোনার হরিণ’। ছয় বছর আগে স্বামী হারানো হাজেরার সঙ্গে কথা হয় সময় সংবাদের। তিনি বলেন, টাকা পেলে ওষুধ কিনতে পারি, পরিবারের কাজ সামলাতে পারি। ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে আসার স্বপ্ন বুনছেন হাজেরার মতো আরও অনেকেই। তারা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ড পেলে সেই টাকা পরিবারের কাজে ব্যবহার করা যাবে। আরও পড়ুন: ১০ মার্চ কড়াইল বস্তি থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী তবে কিছু সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছেন, বিতরণে অনিয়ম হলে তারা বঞ্চিত হতে পারেন।   মূলত হতদরিদ্র দরিদ্র নিম্নবিত্ত পরিবারের মায়েরা এই সুবিধা পাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাদের প্রত্যাশা, এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে আসবে স্বচ্ছতা; কোনোরকম থাকবে না অনিয়ম। এর পাশাপাশি সুবিধাভোগী যারা তাদের কাছেই যেন এই কার্ড পৌঁছায়। স্থানীয় প্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন, যাচাই-বাছাই করে উপযুক্ত ব্যক্তির হাতে কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে এবং কোনো দলীয় নেতাকর্মীর মাধ্যমে বিতরণ হবে না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সামাজিক সুরক্ষা খাতের অপচয় ও দুর্নীতি এই উদ্যোগ সফল হওয়ার পথে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে যদি দলীয়করণ প্রতিরোধ করা যায়, তাহলে ফ্যামিলি কার্ড বদলে দেবে সামাজিক সুরক্ষা খাতের ব্যয়ের চিত্র। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনেক সময় দলীয়করণ ও দুর্নীতি হয়ে যায়। সবার কাছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ফোন নেই। ডিজিটাল রেজিস্ট্রি করলে ডুপ্লিকেশন এড়ানো সম্ভব হবে।