মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই যুবক মারা যান।এর আগে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাতে ওই দুজন চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হন। পরে গণপিটুনির শিকার হন।নিহতরা হলেন: সাগর (৩২) ও সানারুল (৩৪)। তারা বেদে সম্প্রদায়ের। বসবাস করতেন উপজেলার গোয়ালী মান্দ্রায়।এ দিকে এই ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতঘরিয়া এলাকায় একটি খামার থেকে দুই সপ্তাহ আগে লক্ষাধিক টাকার ছাগল চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। আজ ভোরে কমিউনিটি ক্লিনিকে চুরির চেষ্টা হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় এবং তারা দুজনকে ধরে ফেলেন।আরও পড়ুন: রাজশাহীতে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ১, গুরুতর আহত ৭এলাকাবাসীর দাবি, নিহত ব্যক্তিরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চোররা একের পর এক বাসা বাড়িতে চুরি করে যাচ্ছিল। বাসা বাড়িতে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে নেয়া বৈদ্যুতিক সংযোগ তার, এমন কি পানির মোটরের সংযোগ তার, বাথরুমের ফিটিংস, থালা-বাসনসহ গৃহস্থালির নানা সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছিল। গরু-ছাগলও চুরির ঘটনা ঘটে। আর এসব চুরির মাল বিক্রি করতো উপজেলার বৃহৎ মাদকের আখড়া বলে পরিচিত গোয়ালী মান্দ্রার একটি বিশেষ পল্লীতে।মাদক কেনা বেচাকে কেন্দ্র করেই এখানে চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র চালু হয়।এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার রাতে ওই দুই চোর সাতঘড়িয়ার কমিউনিটি ক্লিনিকে বৈদ্যুতিক তার চুরি করতে গিয়ে চোরাই তারসহ ধরা পরেন। তাদের মারধর করে আটকে রাখা হয়।আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনি, চিকিৎসাধীন ২ জনের মৃত্যুপরে বুধবার সকালে আরেক দফা মারধরের পর পুলিশকে জানায় এবং স্থানীয় হাসপাতালে তাদের পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই চোর মারা যায়।লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, গণপিটুনি শিকার ওই দুই চোর মারা গেছেন। তবে এ ব্যাপারে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পরে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।