‘এখানকার অবস্থা খুবই ভয়াবহ। কদিন আগেও অ্যালার্ট ম্যাসেজটুকু পেতাম, এখন সেই ম্যাসেজও আসছে না মোবাইলে। ফলে সতর্ক হওয়ার সময়টুকুও পাচ্ছি না।’ কথাগুলো বলছিলেন কাতার প্রবাসী নিয়ামত উল্লাহ। তিনি বলেন, ইরানে হামলা হওয়ার পর থেকে ইরান যে প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালাচ্ছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মধ্যে কাতার একটি। তিনি বলেন, গত শনিবার থেকে মিসাইল হামলা শুরুর পরই হামলার অন্তত মিনিটখানেক আগে মোবাইলে একটি অ্যালার্ট ম্যাসেজ আসতো। অনেকে সতর্ক হতো। কিন্তু গতকাল (সোমবার) সকালের পর থেকে সেই ম্যাসেজ আসা বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, গত শনি, রবি ও সোমবার এই তিনটি একটি নির্দিষ্ট সময় অর্থাৎ ভোরবেলা, দুপুর সন্ধ্যা এই তিন সময় মিসাইল হামলা হতে দেখেছি। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় আর রুটিন অনুযায়ী হামলা হতে দেখি নাই। যখন তখন অ্যাটাক হচ্ছে। কাতারের প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছিলেন, রোববার মিসাইল হামলায় বন্ধ হয়ে গেছে কাতাদের হামাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। সেই থেকে এখনো পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে এটি। নিয়ামত উল্লাহ বলেন, যারা কাতারের নাগরিক, অর্থ সম্পদ আছে তাদের অনেকে অনেকে রাজধানী দোহা ছেড়ে চলে গেছে সৌদি আরবের সীমানার কাছাকাছি আল খোর কিংবা আল সুমাল এলাকায়। আর প্রবাসী বাংলাদেশি যারা আছেন তাদেরই বেশিরভাগ এখন দোহায় অবস্থান করছে। ‘মধ্য রমজানে একচেটিয়া কেনাবেচা চলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। বিশেষ করে দুবাইয়ে শপিংয়ের জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নাগরিকরা যান দুবাইয়ে। যে কারণে এই সময় দুবাইয়ের রাস্তাঘাট ও শপিং মলগুলোতে থাকে তীব্র মানুষের চাপ। কিন্তু গত চারদিনে পরিস্থিতি এতটাই বদলেছে যে চিরচেনা সেই দুবাইয়ের রাস্তাঘাট প্রায় জনমানবশূন্য।’ সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের প্রবাসীরা জানিয়েছেন, সরাসরি যুদ্ধ না চললেও আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্রের আনাগোনা এবং ড্রোন হামলার ভয়ে তারা তটস্থ। আকাশসীমা আংশিক বন্ধ ও ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় জরুরি প্রয়োজনেও অনেকে দেশে ফিরতে পারছেন না। এমআরএম/এমএস