সৌদি আরামকোর বৃহত্তম তেল শোধনাগারে আবারও হামলা!

সৌদি আরামকোর ‘রাস তানুরা’ স্থাপনায় বুধবার (৪ মার্চ) একটি ‘অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল’ আঘাত হেনেছে বলে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে চারটি সূত্র। এটি সৌদি আরামকোর সবচেয়ে বড় দেশীয় শোধনাগার এবং সেখানে গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল রফতানি টার্মিনাল রয়েছে। এর দুই দিন আগে ড্রোন হামলায় শোধনাগারটি বন্ধ হয়ে যায় বলে রয়টার্সকে জানিয়েছিল একটি সূত্র।সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে যে রাস তানুরা শোধনাগারে ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তেল সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলেও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর সম্প্রতি হামলা শুরুর পর থেকে সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য তেল উৎপাদক দেশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন করতে পারছে না। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালীর উভয় পাশে শত শত জাহাজ নোঙর করে আছে। ইরান জানিয়েছে, কেউ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রমের চেষ্টা করলে তাদের ওপর গুলি চালানো হবে।  আরও পড়ুন: মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি /সৌদি আরবে সিআইএ স্টেশনে সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোন হামলা রাস তানুরা সৌদি আরবের পূর্ব উপকূলে উপসাগরীয় এলাকায় অবস্থিত। সূত্রগুলো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে যেতে আরামকো তাদের কিছু অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগর হয়ে রফতানির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ জানিয়ে পাঠানো রয়টার্সের ইমেইলের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি আরামকো কৃর্তৃপক্ষ। সৌদি আরবের কঠোরভাবে সুরক্ষিত জ্বালানি স্থাপনাগুলো আগেও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আবকাইক তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং খুরাইস তেলক্ষেত্রে নজিরবিহীন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির অর্ধেকের বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এছাড়াও ২০২১ সালে ইয়েমেনের হুতিরা রাস তানুরায় হামলা চালায়, যাকে রিয়াদ বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর ব্যর্থ আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। সূত্র: রয়টার্স