নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের জিন্দা পার্কের ভেতরে অবস্থিত একটি জামে মসজিদ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে কেবল নান্দনিক স্থাপত্যের জন্য নয়, বরং নামাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে এটি নজর কাড়ছে সবার।এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতি। রাজধানীর কোলঘেঁষে রূপগঞ্জের শান্ত-শ্যামল পরিবেশে গড়ে ওঠা জিন্দাপার্ক। আর এই পার্কের ভেতরেই রয়েছে দৃষ্টিজুড়ানো এক স্থাপত্য জিন্দাপার্ক জামে মসজিদ। প্রায় এক বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই মসজিদটি কেবল ইবাদতের জায়গা নয়, বরং আধুনিক শৃঙ্খলার এক অনন্য উদাহরণ। এখানে নামাজে অংশ নিতে হলে প্রয়োজন হয় ডিজিটাল নিবন্ধন। মুসল্লিরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিনে আঙুল দিয়েই নিশ্চিত করেন তাদের উপস্থিতি। মূলত নিয়মিত নামাজে উৎসাহ প্রদান এবং ইবাদতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। প্রযুক্তির মাধ্যমে মুসল্লিদের মধ্যে একটি শৃঙ্খলা তৈরি করতেই এ উদ্যোগ। কে নিয়মিত নামাজে আসছেন বা সময়ের গুরুত্ব দিচ্ছেন কি না, তা এই ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে। এতে মানুষের মাঝে সচেতনতা ও নামাজের প্রতি আগ্রহ—দুই-ই বাড়ছে।আরও পড়ুন: রোগমুক্তির আশায় এ মসজিদে আসেন অন্য ধর্মাবলম্বীরাও স্থানীয় অগ্রপথিক পল্লী সমিতির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই মসজিদে কেবল পার্কের দর্শনার্থী নন, নিয়মিত নামাজ পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরাও। তারা বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর এই পদ্ধতিতে মুসল্লিদের ধারাবাহিক উপস্থিতি ট্র্যাক করা সম্ভব হচ্ছে, যা অনেককেই নিয়মিত জামাতে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করছে। আগে হয়তো অলসতা হতো, কিন্তু এখন ডিজিটাল হাজিরা থাকায় একটা তাগিদ অনুভব করি। এই আধুনিক পরিবেশ আমাদের ইবাদতকে আরও শৃঙ্খলিত করেছে।’ প্রকৃতি আর প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনে জিন্দা পার্কের এই মসজিদটি এখন রূপগঞ্জের অন্যতম আলোচিত স্থাপনা। ধর্মীয় চর্চায় আধুনিকতার এমন ইতিবাচক প্রয়োগ আগামীর জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার যে কেবল বৈষয়িক কাজে নয়, বরং আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় শৃঙ্খলায়ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে—তারই প্রমাণ দিচ্ছে জিন্দা পার্কের এই ডিজিটাল মসজিদ।