#পাঁচদিনে ১৭৩ ফ্লাইট স্থগিত#বিকল্প উপায় খুঁজছেন যাত্রীরা#ট্রানজিট যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে#পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আলামত নেই।#মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট বন্ধ পরিস্থিতি মানবিক সংকটের দিকে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। ওই অঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বুধবার যুদ্ধের পঞ্চম দিন পর্যন্ত ১৭৩টি ফ্লাইট বাতিল করেছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্রমেই ফ্লাইট বাতিলের হার বাড়ছে। এ অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী শ্রমিকেরা। অন্যদিকে, সৌদি আরবে ওমরা করতে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি এখন ঢাকামুখী ফ্লাইট স্থগিতের কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না। তাদের অনেকের সঙ্গে বয়স্ক নারী-পুরুষ ও শিশুরা রয়েছেন। অতিরিক্ত সময়ের থাকা-খাওয়ার খরচ মেটাতে গিয়ে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। অনেকে দেশে ফিরতে বিকল্প উপায় খুঁজছেন। সব মিলিয়ে এসব বাংলাদেশিরা মানবিক সংকটের মুখে চরম অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কে দিন পার করছেন। এদিকে, নির্ধারিত সময়ে মধ্যপ্রাচ্য যেতে না পাড়ায় অনেক প্রবাসী শ্রমিকের ভিসা ও আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অনেকে ছুটিতে এসে ফিরতে না পাড়ায় চাকরি বাঁচানো অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ এবং ওমানের মাস্কাটে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। অন্যদিকে, আবুধাবি, শারজাহ, দুবাই, দোহা, কুয়েত ও দাম্মাম রুটের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। স্থগিত থাকা ওই ছয়টি বিমানবন্দরে যেসব যাত্রীর ট্রানজিট ছিল, তারাও বিপাকে পড়েছেন। বিশেষত যারা ঢাকা থেকে আবুধাবি, শারজাহ, দুবাই, দোহা, কুয়েত ট্রানজিট হয়ে সৌদি আরবে ওমরায় গেছেন, তারা এখন ফিরতে পারছেন না। সৌদিতে থাকা-খাওয়াসহ নানান জটিলতায় পড়েছেন তারা। এছাড়া যারা ওইসব রুটের ট্রানজিট নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে ভ্রমণ, ব্যবসার কাজে গেছেন, তারাও ফিরতে পারছেন না। ওই দুটি মহাদেশ থেকে যারা ফিরছেন, তাদের নতুন টিকিট কিনে বিকল্প এয়ারলাইন্স ও রুটে ফিরতে হচ্ছে। আবার যারা যাচ্ছেন, তাদেরও নতুন করে টিকিট কাটতে হচ্ছে। শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে দিনে প্রতিদিন প্রায় ১৯০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ফ্লাইট মধ্যপ্রাচ্যের। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর গত পাঁচদিনে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যের ১৭৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে অন্তত ৫০ হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ না হলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। একই কারণে ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি এবং ৪ মার্চ ২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সব মিলে এখন পর্যন্ত ১৭৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলায়েল। তখনই আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় ইরান, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, সিরিয়া, জর্ডান, লেবানন ও ইসরাইল। এ অবস্থায় যেসব ফ্লাইট মধ্যপ্রাচ্য থেকে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল, সেগুলো স্থগিত হয়ে যায়। আবার ঢাকা থেকে যেসব ফ্লাইট মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার কথা ছিল, সেগুলোও স্থগিত করে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) কাওসার মাহমুদ জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। একই কারণে ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি এবং ৪ মার্চ ২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সব মিলে এখন পর্যন্ত ১৭৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে সৌদির জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ বিমাবন্দর এবং ওমানের মাস্কট বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সৌদি আরবের অন্যতম বড় বিমানবন্দর দাম্মাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ বিমানবন্দরে ফ্লাইট উড্ডয়ন-অবতরণ বন্ধ আছে। ফলে অনেক প্রবাসী শ্রমিক নতুন করে অন্য এয়ারলাইন্সে টিকিট কেটে জেদ্দা, মদিনা বা রিয়াদ বিমানবন্দরে নেমে সড়কপথে দাম্মাম যাচ্ছেন। আবার দাম্মাম থেকে যারা দেশে আসবেন বলে ঠিক করেছিলেন, তারাও সৌদির ওই তিনটি বিমানবন্দর হয়ে ঢাকায় ফিরছেন। আরও পড়ুনমধ্যপ্রাচ্যের ৬ রুটে সব ফ্লাইট বাতিল বিমানেরফ্লাইট স্থগিত, শাহজালাল বিমানবন্দরে অনিশ্চয়তায় হাজারো যাত্রীশাহজালাল বিমানবন্দরে তিনদিনে ১০২ ফ্লাইট বাতিল সৌদি আরবের জেদ্দায় আট বছর ধরে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিদারুল হক। তিন মাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তার জেদ্দায় ফেরার কথা ছিল। ৩ মার্চ থেকে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে নির্ধারিত দিনে ফ্লাইট বাতিল করে এমিরেটস এয়ারলাইন্স। পরে দিশেহারা হয়ে বিমানবন্দর থেকে ফিরে যান দিদারুল হক। এরপর ২ মার্চ আবার শাহজালাল বিমানবন্দরে যান দিদারুল হক। এসময় ক্যানোপিতে দাঁড়িয়ে বড় মনিটরে দিনের ফ্লাইট সিডিউল দেখছিলেন তিনি। তার চোখেমুখে ছিল হতাশার ছাপ। কথা হলে এই বাংলাদেশি প্রবাসী জাগো নিউজকে বলেন, ‘৩ মার্চের মধ্যে কর্মস্থলে যোগ না দিলে চাকরিতে সমস্যা হবে। তাই কোনো উপায় না পেয়ে ১ মার্চ বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলায় ৫৫ হাজার টাকায় জেদ্দার একটি টিকিট কেটেছি। ওই ফ্লাইটে জেদ্দা যাবো। তারপর জেদ্দা থেকে সড়কপথে দাম্মাম যেতে হবে।’ এদিকে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই ও আবুধাবি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা। ৪ মার্চ প্রথম ফ্লাইটটি (৪৩৬ আসনবিশিষ্ট এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০) শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করবে। একই ফ্লাইট দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। দুবাই ও আবুধাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, এয়ার ইন্ডিয়াসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সকে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। যেসব বাংলাদেশি যাত্রীদের ভিসার মেয়াদ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে অথবা শিগগির শেষ হতে যাচ্ছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে আবার বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অন্য বিশেষ ফ্লাইটটি শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করবে। একই ফ্লাইট দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলামধ্যপ্রাচ্যে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-আবুধাধি-ঢাকা রুটে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা। প্রথম ফ্লাইটটি শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবির উদ্দেশ্যে এবং চট্টগ্রাম থেকে রাত ৮টা ২০ মিনিটে উড্ডয়ন করবে। একই ফ্লাইট আবুধাবি থেকে স্থানীয় সময় রাত ১টায় (৫ মার্চ) ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, দুবাই ও আবুধাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, এয়ার ইন্ডিয়াসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সকে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। যেসব বাংলাদেশি যাত্রীদের ভিসার মেয়াদ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে অথবা শিগগির শেষ হতে যাচ্ছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, টিকিট বুকিং সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের যে কোনো সেলস সেন্টার অথবা নিকটস্থ ট্রাভেল এজেন্সিতে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে। এছাড়া বিস্তারিত তথ্যের জন্য হটলাইন ১৩৬০৫ এবং মোবাইল ফোন ০১৭৭৭৭৭৭৮০০–৮০৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন যাত্রীরা। চার্জ ছাড়া টিকিট রিফান্ডের সুযোগ বিমানের মধ্যপ্রাচ্যে সংযুক্ত আরব আমিরা, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান, কাতার, সৌদিতে ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তবে গত পাঁচদিন ধরে আবুধাবি, শারজাহ, দুবাই, দোহা, কুয়েত ও দাম্মাম রুটের সব ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। শুধু জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, মাস্কাট ফ্লাইট যথারীতি পরিচালিত হচ্ছে। বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, বিমানের সাময়িক স্থগিত হওয়া এই রুটগুলোতে যাত্রীরা, যারা স্থগিত থাকাকালীন যাত্রার জন্য টিকিট সংগ্রহ করেছেন- তারা কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই টিকিট রিফান্ড করতে পারবেন অথবা বিনামূল্যে যাত্রার তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন। যাত্রীরা দেশে ও বিদেশে বিমানের যে কোনো সেলস সেন্টার অথবা কেনা টিকিট প্রদানকারী ট্রাভেল এজেন্সি থেকে এই সেবা নিতে পারবেন। ট্রানজিটের ওমরা যাত্রীরাও বিপাকেবাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা। অধিকাংশ ওমরা যাত্রী এসব এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যাতায়াত করেন। এর বাইরে এয়ার এরাবিয়া, সালাম এয়ার, ফ্লাই দুবাই, ইত্তেহাদ, এমিরেটস এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট দেশে ট্রানজিট দিয়ে সৌদিতে যাত্রী পরিবহন করে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে সব কটি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট বাতিল করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাহজালাল বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, অনেকের দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ বা অন্যান্য দেশে ট্রানজিট টিকিট ছিল—যেগুলো এখন আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। ফলে যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আরও পড়ুনবহুমুখী সংকটে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রবাসী বাংলাদেশিরাইরানে থাকা বাংলাদেশিদের নিয়ে উদ্বেগ, সব পক্ষকে সংযমের আহ্বান ঢাকার ‘বিশেষত মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় হাজারো বাংলাদেশি ওমরা যাত্রী এখন চরম অনিশ্চয়তায় আটকা পড়েছেন। মক্কা, মদিনা, জেদ্দা—সব জায়গায় এখন বাংলাদেশি যাত্রীরা হোটেল ভাড়া, খাবার, ভিসার মেয়াদ, অতিরিক্ত খরচ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন’—বলেন এ কর্মকর্তা। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ওমরা করতে ফ্লাই দুবাইয়ে সৌদি যান রাজধানীর বনশ্রীর বাসিন্দা জহির উদ্দিন। ২ মার্চ সকালে তার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ১ মার্চ রাতে জেদ্দা বিমানবন্দর গিয়ে জানতে পারেন, যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ। সৌদিতে বাংলাদেশি ওমরা যাত্রীদের সঙ্গে বয়স্ক নারী-পুরুষ ও শিশুরাও রয়েছেন। তারা সৌদিতে থাকা-খাওয়া নিয়ে কঠিন এক অবস্থায় পড়েছেন। এ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ মানবিক সংকটের দিকে যাচ্ছে মুঠোফোনে কথা হলে জহির উদ্দিন বলেন, ‘কিছুটা কম ভাড়ায় ফ্লাই দুবাইয়ে টিকিট কেটেছিলাম। এখন দেশে ফেরার উপায় খুঁজে পাচ্ছি না। সৌদিতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও নেই। দেশ থেকে পরিচিত একজনের মাধ্যমে টাকা নিয়েছি। এখন অন্য এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটে ঢাকায় ফেরার চেষ্টা করছি।’ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ। তার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ক্যাম্পেন আব্দুল্লাহ’ নামে একটি পেজ রয়েছে। পেজটিতে মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইন্স সংকটের নিয়মিত আপডেট দেওয়া হয়। বুধবার (৪ মার্চ) ওই পেজে দেওয়া এক স্টাটাসে বলা হয়, সৌদিতে বাংলাদেশি ওমরা যাত্রীদের সঙ্গে বয়স্ক নারী-পুরুষ ও শিশুরাও রয়েছেন। তারা সৌদিতে থাকা-খাওয়া নিয়ে কঠিন এক অবস্থায় পড়েছেন। এ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ মানবিক সংকটের দিকে যাচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ—অবিলম্বে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে আটকে পড়া ওমরা যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক। এমএমএ/এমকেআর