ইরানে হামলা চালিয়ে দ্রুত সাফল্য পাওয়ার যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ছিল, তা সফল হয়নি। এ পরিস্থিতিতে নতুন কৌশল এটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে ইরানে স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন মতে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইরানের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্রোহী কুর্দি সংগঠনগুলোর হাতে মারণাস্ত্র তুলে দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শুরুতে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হবে কি না এবং হামলার কৌশল কী হতে পারে—এসব বিষয়ে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। ইরান-ইরাক সীমান্তে ইরানের কুর্দি সশস্ত্র সংগঠনগুলোর হাজারো যোদ্ধা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ইরাকের স্বশাসিত কুর্দিস্তান ইরানের বিদ্রোহী কুর্দিদের মূল ঘাঁটি। কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মূলত ইরান-ইরাক সীমান্ত এলাকায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় এখন তারা ইরানের ভেতরেও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের লক্ষ্য, ইরানের সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করা। সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদন বলা হয়েছে, গত শনিবার শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার পর ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নেয়াটাই হবে কুর্দি সশস্ত্র তৎপরতার মূল লক্ষ্য। তবে অভিযান এবং এর সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব পাসে ব্যর্থ মার্কিন সিনেট প্রতিবেদন মতে, একাধিক সূত্র আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কুর্দি গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি ইরাকের ইরবিল ও বাগদাদের নেতারাও গত কয়েক দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্রের জোগান দেবে সিআইএ। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন অস্ত্র ও প্রশিক্ষণে ইরানের ভেতরে হামলা চালাবে ও অরাজকতা সৃষ্টি করে শাসকগোষ্ঠীকে নাস্তানাবুদ করবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই কুর্দিদের বেশ কয়েকটি সংগঠন বিবৃতি দিয়ে হামলাকারীদের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তারা ইরানের সেনাবাহিনীকে সরকারের পক্ষ ত্যাগ করে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়ার আহ্বান জানায়। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কুর্দিস্তান গণতান্ত্রিক দলের (কেডিপিআই) সভাপতি মুস্তফা হিজরির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের কুর্দিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এর আগে গত রোববার (১ মার্চ) ইরাকের কুর্দি নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন ট্রাম্প। কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও কুর্দিরা সম্মিলিতভাবে স্থল অভিযানকে এগিয়ে নিতে পারে, তা নিয়েই তিনি কথা বলেন বলে জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। আরও পড়ুন: ইরাকের কুর্দি নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ ট্রাম্পের, উদ্দেশ্য কী? কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করবে ইরানের কুর্দিরা- এমন প্রত্যাশার কথা সিএনএনকে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ কুর্দি কর্মকর্তা। এমন পরিস্থিতিতে কুর্দি সংগঠনগুলোর ওপর হামলা শুরু করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।