শুল্ক-ভ্যাট কমানোর পরও এলপিজির বাজারে নৈরাজ্য

আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট কমানো হলেও এলপি গ্যাসের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরেনি। এখনও গ্রাহককে ১২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে বাড়তি দাম নেয়া হলেও, রশিদ জালিয়াতির সুযোগ নিয়ে অনিয়ম চালানো হচ্ছে।১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১৩৪১ টাকা হলেও, জায়গা ভেদে গ্রাহককে ১৭০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। রাজধানীর উত্তরার একটি হোটেলের কর্মীরা জানান, মাসে ৪৫ কেজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের জন্য ২০টির বেশি সিলিন্ডার কিনতে হয়। প্রতিটিতে দেড় হাজার টাকা বাড়তি খরচ হওয়ায় মাসিক খরচ ৩০ হাজার টাকার বেশি হয়ে যায়। সাধারণ গ্রাহকরাও একই সমস্যার মুখোমুখি। মূলত এলপি গ্যাস আমদানিতে শুল্ক কমানোয় সরকারের রাজস্ব কিছুটা কমলেও, সাধারণ ভোক্তাদের খুব একটা উপকার হয়নি। এর ফলে তারা প্রশ্ন করছেন, বাজারের শৃঙ্খলা ফেরার জন্য কতদিন অপেক্ষা করতে হবে? আরও পড়ুন: মার্চ মাসের এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ ভুক্তভোগী জেসমিন বলেন, ‘একটি সিলিন্ডারের জন্য আমার কাছ থেকে ১৮৫০ টাকা নেয়া হয়েছে। এভাবে চললে সাধারণ মানুষের জন্য জীবন চালানো খুবই কঠিন হয়ে যাবে। আমরা কীভাবে পরিবার নিয়ে চলবো?’ আরেক ক্রেতা জয়নাল বলেন, ‘একটি সিলিন্ডারে ৬০০ টাকা বেশি লাগছে। কী করব, কিনতে তো হবেই। কারণ চুলা জ্বালাতে তো গ্যাস লাগবেই। আর চুলা না জ্বললে খাব কি?’ ক্রেতা আফিদা খাতুন বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। সরকার যদি সাহায্য না দেয়, আমরা কীভাবে চলবো? ভাত কিনব নাকি এত দামের গ্যাস কিনব?’ আরেক ক্রেতা হাসিব বলেন, ‘১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্য আমাকে ২০০০ টাকা দিতে হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত দামের সঙ্গে মিল নেই। বিক্রেতারা সরকারি দাম মানছে না, নিজের মতো করে ব্যবসা করছে।’ এদিকে, উৎপাদক, ডিলার, পরিবেশক হয়ে গ্রাহক পর্যন্ত একটি সিলিন্ডার হাত বদল হচ্ছে অন্তত চার দফায়। প্রতিটি স্তরেই উপেক্ষিত নির্ধারিত দাম। আর এই কারসাজি সম্পন্ন হয় রশিদ জালিয়াতির মাধ্যমে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, সরকার নির্ধারিত রেটের থেকে ১০০ টাকা বেশি খরচ নিয়ে ডিলাররা সিলিন্ডার তাদের কাছে দেয়, রশিদ দেয় না। যেসব অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়, সেটাও কোনোভাবেই রশিদে লেখা হয় না। ফলে ভোক্তারা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। আরও পড়ুন: এলপি গ্যাস / সংকটের নামে ৩ হাজার কোটি টাকা লুট, গ্রাহকের ভোগান্তি কাটবে কবে? দাম নিয়ে নৈরাজ্যের এই দায় বরাবরই এড়িয়ে যান এলপি গ্যাস আমদানিকারকরা। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, যারা লাইসেন্সধারী তারা বিইআরসির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করেন না। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে এই দাম আরও বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে, ফলে সাধারণ ভোক্তারা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসিও তাদের সীমাবদ্ধতা এবং লোকবল ঘাটতি স্বীকার করেছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা জেলা প্রশাসনের সহায়তা পুনরায় নেব। এলপিজি বাজারে নজরদারি বাড়াতে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় করার পদক্ষেপ নেয়া হবে।’ শুধু দাম নির্ধারণ করলেই সমস্যা সমাধান হবে না; ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় বাজারের কঠোর তদারকি অপরিহার্য বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।