ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল নেতা বহিষ্কার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে মো. ইদ্রিস নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এক যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জহিরুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নিহত ইদ্রিস দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ খানের ছেলে। তিনি ঢাকায় সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন চলাকালে ইদ্রিস ফেসবুকে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে পোস্ট ও মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হন অভিযুক্ত জহিরুল। আরও পড়ুন: পটুয়াখালীতে আদালতে হট্টগোল, ২ আইনজীবীর মারামারি কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন ইদ্রিস। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পাখিমারা বাজারে গেলে জহিরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে ডেকে ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। মারধরের পর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম নিয়ে প্রথমে স্থানীয়ভাবে ইদ্রিসকে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলেও সোমবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এই প্রেক্ষাপটে দলীয় নীতি-আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের দায়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি জহিরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত নেতার কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলে জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সহ-দফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষর রয়েছে।