প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার নিয়ে শঙ্কা - দৈনিক মানবজমিনে প্রধান সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা, পাল্টা হামলা ও সংঘাতের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার জেরে আকাশসীমা বন্ধ, ফ্লাইট বাতিল ও ভিসা জটিলতা তৈরি হয়েছে দেশে দেশে। এতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের কর্মী পাঠানো। এরই মধ্যে আরব আমিরাত ও বাহরাইনে দুইজন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর মিলেছে, আহত হয়েছেন আরও সাতজন। উপসাগরীয় ছয় দেশে প্রায় ৪৫ লাখ প্রবাসী কর্মীর ওপর অনেকটা নির্ভরশীল দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রবাসীদের পরিবারেও বাড়ছে উদ্বেগ-আতঙ্ক।জ্বালানি সংকট, ডিজেল বিক্রিতে রেশনিং - দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আমদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বালানি তেল ও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বিশ্ববাজারে। বাংলাদেশমুখী তেলের ২টি জাহাজ নির্ধারিত সময়ে আসছে না। এ কারণে ডিজেল বিক্রিতে রেশনিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পেট্রোল পাম্পগুলোকে চাহিদার ১০ শতাংশ কম ডিজেল দেয়ার নির্দেশ দয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ‘তেল পাওয়া যাবে না’ আতঙ্কে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন পড়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তেল বিক্রি ঠেকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। এদিকে, এই মাসে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দুটি কার্গো দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কাতার এনার্জি। এর পরিবর্তে উন্মুক্ত বাজার (স্পট মার্কেট) থেকে তা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত কোনো বিক্রেতার খোঁজ পায়নি। এ সপ্তাহের মধ্যে ওই দুই কার্গোর বিকল্প ব্যবস্থা করতে না পারলে ১৫ মার্চের পর দেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকট দেখা দিতে পারে। শুরু হতে পারে গ্যাসেরও রেশনিং। তখন বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে শিল্প ও বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।সরকারের সুলভ মূল্যে বিক্রি কার্যক্রম নামেমাত্র- দৈনিক সমকালের প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদ এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিম্ন আয়ের মানুষের স্বস্তির ভরসা হয়ে ওঠা সুলভ মূল্যের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে এবার দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। গরুর মাংস আসছে অল্প, তাও নিম্নমানের। ডিমের দাম বাজারের সঙ্গে প্রায় সমান। মাছ বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ। ফলে উদ্যোগটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ক্রেতারা। বুধবার ছিল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সুলভ মূল্যে মাংস, ডিম ও দুধ বিক্রির ১৪তম দিন। সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে সোহাগ হোটেলের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ১০-১২ জন ক্রেতা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। সবার লক্ষ্য গরুর মাংস। খাসির মাংস এ বছর নেই। আর গরুর মাংস ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যেই শেষ। মাংস শেষ হওয়ার পরপরই ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের সামনে ভিড় কমে যায়।পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের কান্না কি কেউ শুনতে পায়? - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার সংবাদ এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকে যারা টাকা জমা রেখেছিলেন, তারা এখন নিঃস্ব, সর্বস্বান্ত, অসহায়। তাদের দোষ কোথায়? কী তাদের অপরাধ? তারা তো সরকারের অনুমোদিত ব্যাংকেই টাকা রেখেছিলেন। তখন তো সরকার বলেনি, এখানে টাকা রাখা উচিত হবে না কিংবা ঝুঁকি আছে। তাহলে আমানতকারীদের টাকার দায়িত্ব কেন সরকার নেবে না? সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক বা একীভূত করা পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা অতিপ্রয়োজনেও টাকা না তুলতে পারাসহ নানা ধরনের সংকটে ভুগছেন। দুই বছর ধরেই তারা এমন ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। সবশেষ ভোগান্তি হিসেবে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের হিসাব থেকে আগে দেয়া মুনাফা কেটে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে আমানতকারীদের আন্দোলনের চাপে বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ৪ শতাংশ মুনাফা দেয়ার ঘোষণা দেন।