ইরান যুদ্ধে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা

ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত আগ্রাসন ও ইরানের পাল্টা হামলায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের আক্রমণে ইসরাইলে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৬ সেনাও নিহত হয়েছে। কুয়েত, বাহরাইন, আমিরাতেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলি হামলায় লেবাননেও মারা গেছেন প্রায় অর্ধশত মানুষ।ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ষষ্ঠদিনে গড়িয়েছে। মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল ও স্কুল। হামলায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। ইরানে নিহতের সংখ্যা বেশি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। রেড ক্রিসেন্টের এক তথ্য অনুয়ায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় হাজারের বেশি নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় প্রায় ২০০ শিশু নিহত হওয়ার দাবি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত ও ২৪৬ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইলে বেইত শিমেস শহরে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জন নিহত হন। তেল আবিব এলাকায় পৃথক হামলায় আরও প্রাণহানি ও অন্তত ৪০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করে, ইরানের হামলায় একটি আঞ্চলিক স্থাপনা থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এতে মোট ৬ মার্কিন সেনা নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আরও পড়ুন: কুর্দিদের দিয়ে ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতেও। বাহরাইনের জুফাইরে অবস্থিত মার্কিন ফিফথ ফ্লিপ সদরদফতর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের জুরফ আল-সাখের ঘাঁটিতে হামলায় পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস ও হিজবুল্লাহ সদস্যদের মধ্যে দুইজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। উত্তর ইরাকের এরবিলে মার্কিন কনস্যুলেট ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। ওমানে দুকম বন্দর ও মুসান্দাম উপকূলে তেলবাহী জাহাজে হামলায় হতাহতের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আবুধাবিতে ধ্বংসাবশেষ পড়ে একাধিক প্রাণহানি ঘটে, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাতেও আহতের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হামলা এখন আর সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই, পুরো অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত নিরাপত্তা সংকট ও অনিশ্চয়তার নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। আরও পড়ুন: পাল্টা আঘাত ছাড়া কোনো পথ খোলা ছিল না: ইরানের প্রেসিডেন্ট