রাশিয়ার একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী ট্যাঙ্কার ভূমধ্যসাগরে লিবিয়া ও মাল্টার মাঝামাঝি এলাকায় ডুবে গেছে। এ ঘটনায় মস্কো ইউক্রেনকে দায়ী করেছে। খবর আল জাজিরার।লিবিয়ার বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে লিবিয়ার সির্তে বন্দরের উত্তরে জাহাজটিতে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর বড় ধরনের আগুন লাগে এবং শেষ পর্যন্ত জাহাজটি পুরোপুরি ডুবে যায়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন এই জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তিনি এটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, ‘আর্কটিক মেটাগাজ’ নামের জাহাজটি আর্কটিক অঞ্চলের মুরমানস্ক বন্দর থেকে এলএনজি নিয়ে যাচ্ছিল। তাদের দাবি, লিবিয়ার উপকূল থেকে ছোড়া ইউক্রেনীয় নৌ ড্রোনের হামলায় জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজে থাকা ৩০ জন নাবিকই রাশিয়ার নাগরিক এবং তারা সবাই নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন। উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য রাশিয়া মাল্টার উদ্ধার সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। জাহাজটিতে প্রায় ৬২ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি ছিল, যা মিশরের পোর্ট সাঈদ বন্দরে যাওয়ার পথে ছিল। আরও পড়ুন: সাইপ্রাসে যুদ্ধজাহাজ, আকাশ প্রতিরক্ষা পাঠাচ্ছে ইউরোপের তিন দেশ লিবিয়ার সামুদ্রিক উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, আগুন লাগার পর জাহাজটি লিবিয়া ও মাল্টার মাঝের পানিতে ডুবে যায়। আশপাশের জাহাজগুলোকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং কোনো দূষণ দেখলে জানাতে বলা হয়েছে। এদিকে দফায় দফায় বৈঠকের পরও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোন অগ্রগতি নেই। বিভিন্ন অঞ্চলে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা চলছেই। এতে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। বুধবার (৪ মার্চ) ইউক্রেনজুড়ে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ফ্রন্টে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সম্মুখ লড়াইও অব্যাহত আছে। ইউক্রেনের মাইকোলাইভ এবং স্লোভিয়ানস্ক শহরে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ সেনারা। মাইকোলাইভে একটি পরিবহন অবকাঠামো ও রেলওয়ে স্টেশনে চালানো হামলায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। স্লোভিয়ানস্কে আবাসিক এলাকায় চালানো হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি। মিলেছে হতাহতের খবর। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সাধারণ মানুষকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আরও পড়ুন: ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার বিষয়ে সতর্ক করল রাশিয়া আকাশপথের হামলার পাশাপাশি স্থলভাগেও দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে চলছে রক্তক্ষয়ী লড়াই। ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের তথ্যমতে, বুধবার বিকেল পর্যন্ত রুশ বাহিনীর সাথে তাদের অন্তত ৪৮টি সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে লিমান এবং কুপিয়ানস্ক সেক্টরে রুশ সেনাদের অভিযানের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহতের দাবি করেছে ইউক্রেন। সীমান্তের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমাগত বোমা ও বিমান হামলার বিপরীতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি করেছে কিয়েভ। বর্তমানে রণক্ষেত্রের সবচেয়ে অস্থির ও সক্রিয় এলাকা হুলিয়ায়পোল, পোক্রোভস্ক ও কোস্তিয়ান্তিনিভকা সেক্টর। এই অঞ্চলগুলোতে রুশ বাহিনী তাদের আক্রমণের তীব্রতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার বিপরীতে অবস্থান ধরে রাখতে লড়ছে ইউক্রেনীয় সেনারা। কোনো পক্ষই এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দিতে নারাজ। রণক্ষেত্রের এই ডামাডোলের মধ্যেই নতুন এক অর্থনৈতিক যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রুশ জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পথে হাঁটায়, রাশিয়া নিজেই এখন থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার কথা ভাবছে। পুতিনের মতে, ইউরোপের পরিবর্তে এশিয়ার নতুন বাজারগুলোতে জ্বালানি রফতানি করা রাশিয়ার জন্য অনেক বেশি লাভজনক হবে।