তুরস্কে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাবা-ছেলের মৃত্যু

তুরস্কে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে কক্ষে অক্সিজেনের অভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক বাবা ও তার ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের সঙ্গে থাকা অপর এক যুবক গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।বুধবার (৪ মার্চ) স্থানীয় সময় ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মেড্ডা গ্রামের মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া (৪৫) ও তার একমাত্র ছেলে সাব্বির (২২)। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সাব্বিরের চাচাতো ভাই লিটন (২৬)। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য তুরস্কের একটি হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতের স্বজনেরা জানান, তুরস্কের একটি বহুতল ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড কক্ষে তারা একসঙ্গে বসবাস করতেন। মঙ্গলবার রাতে সেহরি খাওয়ার পর ভোরে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে কক্ষে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয়। এ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তারেক মিয়া ও তার ছেলে সাব্বিরের মৃত্যু হয়। পরে লিটনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আরও পড়ুন: কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ড: দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু  তারেক মিয়া প্রায় ১৪ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে তুরস্কে পাড়ি জমান। দেড় বছর আগে তিনি তার ছেলে সাব্বিরকে সেখানে নিয়ে যান। সাব্বিরের মা বেঁচে নেই। এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাব্বিরের খালা লুতফা বেগম বলেন, ‘হঠাৎ এমন দুর্ঘটনার খবরে আমরা বাকরুদ্ধ। মরদেহ দেশে আনার বিষয়টি নিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের পক্ষে মরদেহ আনা সম্ভব নয়। সবার কাছে এ ব্যাপারে দোয়া ও সহযোগিতা চাই।’