যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এ পর্যন্ত ইরানজুড়ে অন্তত ৩৩টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, বেশ কয়েকটি ইরানি শহরের হাসপাতাল, স্কুল, আবাসিক এলাকা এবং বাজারে এসব হামলা চালানো হয়েছে। খবর আল জাজিরার।তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে তেহরানের নিলুফার চত্বরের আবাসিক এলাকা, তেহরান ও আহভাজের হাসপাতাল, তেহরান গ্র্যান্ড বাজার, রাজধানীর দক্ষিণে অবস্থিত ঐতিহাসিক গুলিস্তান প্যালেস কমপ্লেক্স এবং হরমুজগান প্রদেশের মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যতম। বাঘাই আরও দাবি করেন, উত্তর-পশ্চিম ইরানের মারাগেহ অঞ্চলের আবাসিক এলাকা এবং ফার্স প্রদেশের লামের্ডের একটি খেলাধুলার হলঘরে হামলা চালানো হয়েছে। এই দুই ঘটনায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। পরমাণু ইস্যুতে পরোক্ষ আলোচনার মধ্যে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। যতই দিন যাচ্ছে, সংঘাত ততই তীব্র হচ্ছে। বুধবার যুদ্ধের পঞ্চমদিনে ইরানের পাশাপাশি লেবাননে হামলা জোরদার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ইরানে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। আরও পড়ুন: কুর্দিদের দিয়ে ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে আঘাত হানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। আর দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেটে বিস্ফোরিত হয় ইরানের ড্রোন। ইরান যুদ্ধ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের হামলা, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালীর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নেয়াসহ অঞ্চলজুড়ে দেখা দেয়া অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের এ যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ যুদ্ধ এখন নৌ ও স্থলপথেও চলছে। বুধবার লেবাননের আরও ভেতরে ঢুকেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এদিন দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কার উপকূলে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন থেকে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৮৭ জন নিহত হন। এ ঘটনায় এখনও অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। আরও পড়ুন: পাল্টা আঘাত ছাড়া কোনো পথ খোলা ছিল না: ইরানের প্রেসিডেন্ট ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা, দুটি বিমানবাহী রণতরি ও বোমারু বিমান অংশ নিয়েছে। কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনকে নতুন করে যুদ্ধের কৌশল নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।