বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী সহপাঠীদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে পুলিশে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বরিশাল মহানগর পুলিশের বন্দর থানায় তাকে সোপর্দ করা হয় বলে জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন। এর আগে এ ঘটনার জড়িত ছাত্রের শাস্তি দাবিতে দুপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে প্রক্টর বরাবর দুটি অভিযোগ দেয় শিক্ষার্থীরা। আটক শিক্ষার্থীর নাম তুর্য্য প্রিনাম বাড়ৈ। তিনি রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বন্দর থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা করার কথা জানিয়েছে। মামলার এজাহার পেলে বিস্তারিত বলতে পারবো। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের মো. মিরাজ বলেন, মঙ্গলবার ইফতারের পর তুর্য্য এক নারী সহপাঠীর অনুমতি ছাড়া আপত্তিকর কিছু ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। তাৎক্ষণিক বিষয়টি বুঝতে পেরে তুর্য্যের ফোন চেক করেন ওই ছাত্রী। তখন তুর্য্যের ফোনে আরও অনেক মেয়ের আপত্তিকর ছবি দেখতে পান ওই ছাত্রী। বিষয়টি জানাজানি হলে অন্য নারী সহপাঠীরা তুর্য্যের ফোনে তাদেরও আপত্তিকর ছবি দেখতে পান। পরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর টিম ও বিভাগের শিক্ষকদের ঘটনাটি জানান। পরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় বরাবর দুটি লিখিত অভিযোগ দেন। সেখানে তারা তুর্য্যের শাস্তির দাবি করেন। পরে বিকেলে তাকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। অভিযোগ থেকে জানা গেছে, তুর্য্য দীর্ঘদিন ধরে নারী সহপাঠীদের ব্যক্তিগত ছবি ডিভাইসে সংরক্ষণ করতেন। তার কাছ থেকে জব্দ করা ডিভাইসে ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পাদিত ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, তুর্য্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তার একাডেমির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রশাসন তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া সে যে ছবি তুলেছে, সেগুলো অনলাইনে দিয়েছে কি না, কোন কোন গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত আছে, সেগুলো খুঁজে বের করবে পুলিশ। শাওন খান/এনএইচআর/এমএস