ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ও অন্যান্য সম্পদকে লক্ষ্য করে ১৯তম দফার অংশ হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলার জবাবে আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে এই ঘোষণা দেয়া হয়।এই ঘোষণার পরই ইরান ইসরাইলকে নিশানা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর জেরে লাখো ইসরাইলি বোমা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানায়। ইসরাইলের জরুরি পরিষেবা সংস্থার বরাত দিয়ে এএফপি বলেছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এএফপির প্রতিবেদকেরা জানিয়েছেন, ইরানের হামলার পর জেরুজালেমে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। গত কয়েকদিনে ইরান ইসরাইলের পাশাপাশি তেল সমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে, যার অংশ হিসেবে বহু ক্ষিপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণ ও ধ্বংসের খবর এসেছে। আরও পড়ুন: ৩৩টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ ইরানের ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ষষ্ঠদিনে গড়িয়েছে। মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল ও স্কুল। হামলায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। ইরানে নিহতের সংখ্যা বেশি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। রেড ক্রিসেন্টের এক তথ্য অনুয়ায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় হাজারের বেশি নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় প্রায় ২০০ শিশু নিহত হওয়ার দাবি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত ও ২৪৬ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইলে বেইত শিমেস শহরে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জন নিহত হন। তেল আবিব এলাকায় পৃথক হামলায় আরও প্রাণহানি ও অন্তত ৪০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করে, ইরানের হামলায় একটি আঞ্চলিক স্থাপনা থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এতে মোট ৬ মার্কিন সেনা নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আরও পড়ুন: পাল্টা আঘাত ছাড়া কোনো পথ খোলা ছিল না: ইরানের প্রেসিডেন্ট