ইরানে যুক্তরাষ্ট্র যে হারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, তাতে এভাবে ১০ দিনের বেশি চললে দেশটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসতে পারে। পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া নথিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। আল জাজিরা।গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। তখনও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলছিল। এসব আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সীমিত করা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা বন্ধ করার বিষয়ও ছিল বলে জানা যায়। আরও পড়ুন: আল জাজিরার এক্সপ্লেইনার / ইরান যুদ্ধে কী কী অস্ত্র ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র, খরচ কত? হামলার জবাবে ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। হামলায় ইসরাইলের পাশাপাশি বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছে, ইরানে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালালে বড় ঝুঁকি থাকবে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসবে এবং সেগুলো পুনরায় সংগ্রহ বা মজুত করতে বিপুল খরচ হবে। আরও পড়ুন: ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ১৯তম দফার হামলা শুরু তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র মজুত আছে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, মাঝারি ও উচ্চমানের অস্ত্রের মজুত এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি এবং প্রায় সীমাহীন সরবরাহ রয়েছে। তার মতে, এসব অস্ত্র দিয়েই দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালানো সম্ভব। ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধের পরিকল্পনা শুরুতে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের জন্য করা হয়েছিল, তবে এটি আরও দীর্ঘ হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন যুদ্ধ চললে বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফুরিয়ে আসছে ইরানের মিসাইলও, দাবি পশ্চিমা গোয়েন্দাদের বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরান যে হারে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ছে, তা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন পশ্চিমা গোয়েন্দারা। তাদের মতে, হামলার এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের মিসাইল ভাণ্ডার শূন্য হয়ে যেতে পারে। গত বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের মিসাইল উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি ও হামলা জোরদার করেছে। তারা বেশ সফলভাবে ইরানের মিসাইল লঞ্চারগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে পূর্বের তুলনায় ইরানের মিসাইল ছোড়ার সক্ষমতা ও পরিমাণ অনেকাংশেই হ্রাস পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালীতে আটকা ২০ হাজার নাবিক: জাতিসংঘ অবশ্য গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণে অন্য একটি দিকও উঠে এসেছে। তারা মনে করছেন, ইরান তাদের সব মিসাইল এখনই ব্যবহার করছে না। সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে তারা মিসাইলের একটি বড় অংশ গোপন কোনো ভাণ্ডারে জমা করে রাখছে। এই কৌশলগত মজুদের কারণেই হয়তো বর্তমানে মিসাইল ছোড়ার গতি কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে তেহরান।