রোজায় তীব্র যানজটে নাকাল রংপুরবাসী

‎রোজায় তীব্র যানজটে নাকাল রংপুর নগরবাসী। ট্রাফিক ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করেও মিলছে না সুফল; বরং নগরীর মোড়ে মোড়ে বেড়েছে ভোগান্তি। তবে, যানজট নিরসনে সব ধরনের চেষ্টার কথা জানায় ট্রাফিক বিভাগ।‎সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর প্রধান সড়কে কচ্ছপগতিতে চলছে যানবাহন। মোড়ে মোড়ে অটোরিকশার জটলা।‎রংপুর সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট ও পায়রা চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রায়ই লেগে থাকে রিকশা-অটোরিকশার জট। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সৃষ্টি হয় স্থবিরতা। রোজা শুরুর পর পরিস্থিতি আরও বেগতিক।‎অটোচালক আনিস মিয়া বলেন, ‘অটোরিকশা হয়ে গেছে অনেক বেশি। তা ছাড়া ভাড়াও অনেক কমে গেছে। নাম্বার ছাড়া অনেক গাড়ি চলাফেরা করছে। পুলিশ গাড়ি ঠিকমত ধরে না। ফলে যানজট দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।’আরও পড়ুন: ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানজট নিরসনে সমন্বয় সভা‎এ দিকে, কর্মজীবী মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। কর্মস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগছে দ্বিগুণেরও বেশি।এ বিষয়ে নগরীর মুলাটোল এলাকার বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, ‘যানজট আমাদের পক্ষে এত কষ্ট আর সম্ভব হচ্ছে না। আমরা আর মেনে নিতে পারছি না। গাড়িগুলো যদি নিজস্ব লাইন মেইনটেইন করে চলতে পারতো আমার মনে সাধারণ জনগণের চলাচলে যে ভোগান্তি সেটা অনেকটা আমাদের কমে যেত। প্রতিদিনের এ যানজট এখন গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।নগরীর মুলাটোল এলাকার শিক্ষার্থী ইউশা ফারহান বলেন, ‘অটো আর রিকশা গাড়িতে যানজটে ওপর যানজট। পা ফেলার জায়গা নেই। ফুটপাত দখল করে দোকান দেয়া হয়েছে। হেঁটে হেঁটে স্কুল কলেজ যাতায়াত করতে হয়। কোনো উপায় নেই। প্রশাসনের চোখে এগুলো পড়ে না।’আরও পড়ুন: ঢাকার ৩ স্থান অবরোধ, তীব্র যানজট‎ট্রাফিক বিভাগ বলছে, ডাম্পিং জোন না থাকা ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণেই সৃষ্টি হচ্ছে জট। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ।‎এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) লিমন রায় বলেন, ‘হয় কোতোয়ালি থানায় ডাম্পিং জোন বানাতে হবে, নয়তো তাজহাট থানা। দূরত্বের কারণে একটা গাড়ি সেখানে ডাম্পিং দিয়ে আসা তার মানে, একজন ফোর্স সেখানে দায়িত্বে থাকার কারণে আমার একজন জনবল সে যাচ্ছে এবং আসতেছে। যাওয়া আসার কারণে লম্বা সময় অতিবাহিত হচ্ছে। ডাম্পিং যদি কাছাকাছি হতো তাহলে হয়তো আরও দ্রুত কাজটা করা যেত।’‎তিনি আরও বলেন, ‘নগরীর ট্রাফিক ব‍্যবস্থা নিরসনে অমরা সাধ‍্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি কিছুটা হলেও যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবো।’‎উল্লেখ‍্য, রংপুর মহানগরে এক লাখের বেশি অটোরিকশা চললেও অনুমোদন রয়েছে মাত্র সাড়ে ৮ হাজারের।