ভারতকে আতঙ্কিত করে বেথেলের ঝড়ো সেঞ্চুরি, আক্ষেপ জেতাতে না পারার

অভিজ্ঞ জস বাটলার কিংবা অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকরা যখন বিশাল রানের চাপে নুয়ে পড়েছিলেন, ঠিক তখন একাই ক্রিজ আঁকড়ে ধরে লড়াই চালিয়েছেন তরুণ জ্যাকব বেথেল। জোড়ো ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে জয়ের আশাও দেখিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ ওভারে ৩০ রানের কঠিন সমীকরণ মেলাতে গিয়ে রানআউটে হয়েছে সর্বনাশ। তাতে বীরত্বসূচক এক ইনিংসের পরও মাঠ ছেড়েছেন আক্ষেপ নিয়ে।মুম্বাইয়ে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রান বন্যার এক ম্যাচের সাক্ষী হয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্ব আসরে এক ম্যাচে এর আগে হয়নি এত রান। ভারতের ২৫৩ রানের জবাবে এদিন নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৪৬ রানে থামে ইংল্যান্ডের ইনিংস। ৪৮ বলে ৮ চার ও ৭ ছক্কায় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন বেথেল। ২২ বছরের এ তরুণ মুম্বাইয়ে রূপকথার গল্প লেখার খুব কাছেই ছিলেন। কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না। অবশ্য জাসপ্রিত বুমরাহর শেষ দুই ওভার আর ১৯তম ওভারে এসে ভারতকে হারের ভয় থেকে রেহাই দেন হার্দিক পান্ডিয়া। শেষ ৫ ওভারে যখন ৬৯ রান দরকার, তখন বুহরাহ দুই ওভার বল করে দেন মাত্র ১৪ রান, আর হার্দিক ১ উইকেট নিয়ে দেন ৯ রান। অবশ্য হার্দিককে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে যদি স্যাম কারান ধরা না পড়তেন তাহলে হয়তো ম্যাচের চিত্রই বদলে যেত। দুই বোলারের বুদ্ধিদ্বীপ্ত বোলিংয়ে শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের জন্য দরকার পড়ে ৩০ রান। যেটা একপ্রকার অসম্ভবই ছিল। তার উপর প্রথম বলে ব্যাট-বলে না মেলায় দৌড়ে দ্রুত ২ রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে ফিরে যান বেথেল। এর আগে মাঠে তিনি যতক্ষণ ছিলেন, আতঙ্ক ছড়িয়েছেন ভারতীয় শিবিরে। আরও পড়ুন: চমক দিয়ে পাকিস্তান সিরিজের স্কোয়াড ঘোষণা করল বাংলাদেশবিশাল রান তাড়ায় নেমে এদিন শুরুটা ভালো ছিল না ইংল্যান্ডের। দলের খাতায় ১৩ রান যোগ হতে বিদায় নেন ফিল সল্ট। ৩ বলে ৫ রান করেন তিনি। দলীয় ৩৮ রানে বিদায় নেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। ৬ বলে ৭ রান করেন তিনি। এরপর ১৭ বলে ২৫ রান করে জস বাটলার আউট হলে চাপে পড়ে ইংলিশরা। টম ব্যান্টনকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে সে চাপ সামলানোর চেষ্টায় নামেন জ্যাকব বেথেল। দুজনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে লড়াইটাও জমে উঠছিল। কিন্তু ৫ বলে ২ ছক্কা ও ১ চারের মারে ১৭ রান করে ব্যান্টন আউট হওয়ায় তাদের আধিপত্য স্থায়ী হয়নি। তবে  উইল জ্যাকসকে নিয়ে ফের লড়াই চালান বেথেল। মাত্র ৬.৩ ওভার ব্যাট করে দুজনে তোলেন ৭৭ রান।  ২০ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৬ রান করা জ্যাকসকে বাউন্ডারিতে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচে ফেরান অক্ষর প্যাটেল-শিবাম দুবে জুটি। এরপর স্যাম কারানকে নিয়ে আবার লড়াই চালিয়ে যান বেথেল। ব্যক্তিগতভাবে মোকাবিলা করা ৪৫তম বলে হার্দিককে ছক্কা হাঁকিয়ে তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। এক বল পরে ১৪ বলে ১৮ রান করে কারান আউট হয়ে যান। পরের ওভারের প্রথম বলে বেথেল আউট হলে শেষ হয়ে যায় ইংলিশদের জয়ের আশা। শেষদিকে ৪ বলে ৩ ছক্কায় জফরা আর্চার কেবল হারের ব্যবধান কমিয়ে নেন। দুই ইনিংস মিলে এদিন দুদলের মোট রান দাঁড়ায় ৪৯৯ রান। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে মোট সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এদিকে বিশাল পুঁজি নিয়েও জয় পেতে ঘাম ঝরলেও ফাইনালটা ঠিকই নিশ্চিত করলো ভারত। বল হাতে ৩৮ রান খরচায় ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নিয়েছেন হার্দিক। আরও পড়ুন: চারদিন ধরে হোটেলে আটকে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দেশে ফেরার আকুতি স্যামিরএর আগে এদিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সাঞ্জু স্যামসনের ঝড়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ তুলে নেয় ভারত। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তারা করে ২৫৩ রান। ৪২ বলে ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ৮৯ রান করেন স্যামসন।  ১৮ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৯ রান করেন ইশান কিশান। ২৫ বলে ৪ ছক্কা ও ১ চারের মারে ৪৩ রান করেন শিবাম দুবে। শেষদিকে হার্দিক পান্ডিয়া ১২ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৭ আর তিলক বার্মা ৭ বলে ৩ ছক্কায় ২১ রানের ক্যামিও ইনিংস উপহার দেন। ইংলিশদের হয়ে ৪০ রান খরচায় ২ উইকেট নেন উইল জ্যাকস। ২ উইকেট নিতে ৪১ রান খরচ করেছেন আদিল রশিদ। দলের বাকিরা ছিলেন বেশ খরুচে। জফরা আর্চার ৪ ওভারে দেন ৬১ রান, নেন ১টি উইকেট। স্যাম কারান ৪ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন। আগামী ৮ মার্চ আহমেদাবাদে ফাইনাল নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত।