জামালপুর শহরে নিজ বাড়িতে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে হত্যার পর তার মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করেছেন এক আইনজীবী। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত স্বামীকে পুলিশ আটক করেছে।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জামালপুর পৌর এলাকার ফুলবাড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তাহমিনা আক্তার তানিয়া দুই সন্তানের মা। স্বজনরা জানান, তার স্বামী হোসেন তাইফুর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তিনি রাজধানীতে থাকলেও, স্ত্রী তাহমিনা দুই সন্তান নিয়ে তার বাড়িতে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার তাইফুর তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন এবং স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। তবে তিনি তাদের দুই সন্তানকে নানীর বাড়িতে রেখে আসেন। স্বজনরা আরও জানান, তাহমিনা ও তাইফুরের বিয়ে হয়েছিল ১৫ বছর আগে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা ঘটার সময় দুইজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে তাহমিনাকে পিটিয়ে হত্যা করে তাইফুর। আরও পড়ুন: স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর নিজেকে শেষ করলেন যুবক মৃত্যুর পর বিছানায় আগুন ধরিয়ে তার মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় আশপাশের লোকজন ধোঁয়া দেখে ডাকাডাকি করেন। পরবর্তীতে জানালার কাঁচ ভেঙে দেখা যায়, বিছানায় তাহমিনার লাশ পড়ে আছে এবং আগুন জ্বলছে। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত স্বামী তাইফুরকে আটক করে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী হত্যাকারী স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে আটক করেছে। নিহতের মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এখনো মামলা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।