যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কাছে ইরান যুদ্ধবিরতির কোনো অনুরোধ করছে না এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনারও কোনো কারণ দেখছে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সম্প্রচারিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করছি না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কেন আলোচনা করব তার কোনো কারণও দেখি না। কারণ আমরা তাদের সঙ্গে দুই দফায় আলোচনা করেছি, আর প্রতিবারই তারা আলোচনার মাঝেই আমাদের ওপর হামলা করেছে।’ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে স্থল আক্রমণ চালাতে পারে– এমন আশঙ্কার বিষয়ে আরাঘচি বলেন, আমরা তাদের (মার্কিন বাহিনীর) অপেক্ষায় আছি, কারণ আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আমরা তাদের মোকাবিলা করতে পারব। আর সেটি তাদের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চলমান সংঘাতের জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি রয়েছে, এমনকি স্থল আক্রমণের ক্ষেত্রেও। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছে বলেও জানান তিনি। আরও পড়ুন: যুদ্ধ কখন শেষ হবে এবার তা ঠিক করবে ইরান: আরাঘচি এদিকে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইরান দাবি করেছে, তাদের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী ওমান উপসাগরে দেশের আঞ্চলিক জলসীমা থেকে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-কে ড্রোন হামলার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, ইরানি ড্রোনের আঘাতের পর ওই বিমানবাহী রণতরী ও তার সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ারগুলো দ্রুত এলাকা ছেড়ে সরে যায় এবং বর্তমানে তারা ওই অঞ্চল থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থান করছে। এসব ঘটনা ঘটছে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে চালানো ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য, শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক বহু মানুষ নিহত হন। এর জবাবে ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোর দিকে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। সূত্র: সিনহুয়া