গাইবান্ধায় দেখা দিয়েছে ডায়রিয়াসহ শীত জনিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। গেল দু-সপ্তাহ থেকে প্রায় ৬শ এর বেশি ডায়রিয়া ও শিশু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন শুধু জেলা হাসপাতলে। শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এসব শিশু রোগীর চাপে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।শুক্রবার (৬ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জেলা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ও শিশু রোগীর জন্য বরাদ্দ বেডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় শিশুদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে মেঝে, বারান্দা, সিঁড়ির উপরে ও নিচে অবস্থান নিয়ে। শিশুদের পাশপাশি বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়রিয়াসহ শীত জনিত বিভিন্ন রোগে। জানা যায়, আক্রান্ত এসব শিশুর বেশির ভাগ প্রথমে পেট ব্যাথা, বমি ও পরে ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে গড়ে শুধু জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬শ’র অধিক ডাইরিয়া ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশু রোগি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র গুলোর চিত্রও একই। ডায়রিয়ার পাশাপাশি হঠাৎ জ্বর, সর্দ্দি কাশি, শ্বাস কষ্ট, বমিসহ শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছেন শীতজনিত বিভিন্ন রোগে। স্থানীয় ভাবে চিকিৎসায় ভালো না হওয়ায় ভর্তি করছেন হাসপাতালে। হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর আবার অনেক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে পুনরায়। আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় মসলা জাতীয় ফসল চাষে নতুন সম্ভাবনা, আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের ভর্তি শিশু রোগীর মা ববিতা বেগম জানান, হঠাৎ তার মেয়ে খিচুনী দিয়ে বমি করতে থাকে, পড়ে শুরু হয় পাতলা পায়খনা। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। আরেক শিশু রোগির মা সুলতানা বেগম জানান, দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডায় এমন আবহাওয়ার কারনে তার ৬ মাসের ছেলে জান্নাত জ্বর ও নিউমনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আসিফ জানান, হঠাৎ আবহাওয়ার তারতম্যের কারনে ও রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন ডাইরিয়াসহ বিভিন্ন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডা হওয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। এসব রোগ থেকে রক্ষায় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় ইউএনও’র গোপন ভিডিও ধারণ, প্রধান শিক্ষিকা আটক গাইবান্ধা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ডাইরিয়া রোগির জন্য ২০টি বেডের বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছেন ৫০ জন থেকে ৬০ জন রোগী, ২০টি শিশু ওর্য়াডের বেডের বিপরীতে ভর্তি থাকছেন ৫৫ জন থেকে ৬০ জন শিশু রোগী । এছাড়াও এই হাসপাতালে ভর্তি থাকছে প্রতিদিন প্রায় ৩ শতাধিকের বেশি রোগী, যাদের মধ্যে শতাধিকের বেশি শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত।