৫ মাস আগে ইরাকে যান নাহিদ, স্বপ্ন পূরণের আগেই হলো মৃত্যু

পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনে ৫ মাস আগে প্রবাসে পাড়ি জমান বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান মেহেদি হাসান নাহিদ (২১)। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের আগেই নিভে গেল তার জীবন। ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের আরবিল শহরে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় নাহিদসহ তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তার পরিবার।নিহত নাহিদ ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের দেবীপুর বিসিক শিল্পনগরী সংলগ্ন মৃধা বাড়ির মোহাম্মদ মাহবুবুল হকের ছেলে। পরিবারে এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে নাহিদ ছোট সন্তান ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাহবুবুল হক ৮ বছর ধরে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে কর্মরত। গত বছরের অক্টোবর মাসে বাবার হাত ধরে কাজের সন্ধানে সেখানে যান নাহিদ। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইফতারের পরে নাহিদ ও তার সঙ্গে থাকা আরও তিন বাংলাদেশি একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। সে দিন রাতে নাহিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ তারেক (৪৫) ও তার ছেলে মো. সাব্বিরসহ (২২) তিনজন হাসপাতাল থেকে বাসায় গিয়ে সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে বাসায় গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। আরও পড়ুন: তুরস্কে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাবা-ছেলের মৃত্যু নিহতের চাচা মনিরুজ্জামান বলেন, পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে ১০ লাখ টাকা ঋণ করে তার বাবার মাধ্যমে নাহিদকে প্রবাসে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে সকলে শোকে স্তব্ধ। ছেলে হিসেবেও নাহিদ অনেক নম্র-ভদ্র ছিল। তার পরিবার আর্থিকভাবে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি তাদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে অনেক বেশি উপকৃত হবে। নাহিদের মা হোসনে আরা বলেন, শেষবারের মতো আমার সন্তানের মুখ দেখতে চাই। তাকে দেশে আনার বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। অর্থনৈতিকভাবে আমার পরিবার একদম শেষ হয়ে গেছে। আমি সকলের সহযোগিতা চাই। আরও পড়ুন: কুয়েতে ড্রোনের টুকরো পড়ে শিশুর মৃত্যু! এ ব্যাপারে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি এখনো অবগত না। পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের জানানো হয়নি। অবগত হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী সহায়তা করা হবে।