জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা আর গোপন নেই

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, গত নির্বাচনে নজিরবিহীন ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে, তা আজ দেশ ও জাতির কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতার মসনদ দখল করার অপচেষ্টা আর গোপন নেই। শুক্রবার (৬ মার্চ) কুতুবদিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হামিদ আযাদ বলেন, নির্বাচনের দিন সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিলেও তা সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফলাফল ভিন্নদিকে প্রবাহিত করা হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান এবং সবকিছু দেখেও প্রশাসনের নিরবতা ভিন্ন কিছুরই প্রমাণ বহন করে। ড. হামিদ আযাদ বলেন, সাবেক উপদেষ্টা ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক মন্ত্রিত্ব পাওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। কীসের বিনিময়ে এবং কোন সমঝোতার ভিত্তিতে এই পুরস্কার, তা জাতির কাছে স্পষ্ট করতে হবে। উপদেষ্টার শপথ ভঙ্গ করে যোগসাজশে এ ধরনের রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ গণতন্ত্রকামী মানুষের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। একই সঙ্গে ড. হামিদ আযাদ অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক সময়ে এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতের বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার ব্যাপারে যে রাজসাক্ষী দিয়েছেন তা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, মানুষ সতেরো বছর পর বহুল উৎসাহ উদ্দীপনায় ভোট দানের জন্য অপেক্ষা করছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে মানুষের এই উৎসাহে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। তিনি অবিলম্বে এর সুষ্ঠু তদন্ত করে কারা কারা জড়িত প্রত্যেকের শাস্তির দাবি জানান। মতবিনিময় সভায় কুতুবদিয়া উপজেলা আমির আ স ম শাহরিয়ার চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সেক্রটারি মাওলানা নূরুল আমিন, বড়ঘোপ ইউনিয়ন সভাপতি আহমদ নূর, আলী আকবর ডেইল ইউনিয়ন সভাপতি আবু ছালেক, কৈয়ারবিল ইউনিয়ন সভাপতি মো. ওসমান গণি, লেমশিখালী ইউনিয়ন সভাপতি রেজাউল করিম রাজু, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন সভাপতি মো. বেলাল হোসাইন, উত্তর ধুরুং ইউনিয়ন সভাপতি সৈয়দ আলমসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। সায়ীদ আলমগীর/কেএইচকে/এএসএম