ঝিনাইদহ সীমান্তে ৭ ভারতীয় ও ৪ বাংলাদেশি আটক

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অবৈধভাবে পারাপারের চেষ্টাকালে শিশুসহ সাত ভারতীয় এবং চার বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটককৃতদের মধ্যে তিনজন নারী ও সাতটি শিশু রয়েছে।শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টায় মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে এবং শুক্রবার সকালে পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে মহেশপুরের ৫৮ বিজিবির অধীন বাঘাডাংগা বিওপির হাবিলদার অনুপম বিশ্বাসের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে চার বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তারা হলেন খুলনার দাকোপ থানার আন্ধারমানিক গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে হুমায়ুন কবির এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার উত্তর আটুলিয়া হাওয়ালভাঙ্গী গ্রামের সিরাজুল গাজী (২৮)। আটক বাকি দুজনের মধ্যে একজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। অন্যদিকে, শুক্রবার সকালে মহেশপুরের শ্রীনাথপুর বিওপির নায়েব সুবেদার রমজান আলির নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে একই পরিবারের সাত ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবি। তারা হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা থানার টিল ডাংগা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মো. শাহাজান (৩৩) ও তার স্ত্রী তৈয়বা বেগম (৩০)। এ সময় তাদের পাঁচ সন্তানকেও আটক করা হয়। তারা হলো: ইমরান (১২), ইফরান (১০), আয়ান (৮), মো. জিদান (৬) ও মোছা. সায়দা খাতুন (৪)। আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, আহত ১০ বিজিবি আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শাহাজান জানিয়েছেন, তিন বছর বয়সে তিনি ভারতে যান এবং সেখানে ৩০ বছর ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। পরে ভারতীয় নাগরিক মোছা. তৈয়বা বেগমকে বিয়ের পর তিনি সেখানকার নাগরিকত্ব লাভ করেন। গত ডিসেম্বরে রাজশাহী সীমান্ত পেরিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং গাইবান্ধায় বাসা ভাড়া নিয়ে বিসিকে কাজ করতেন। কাজ শেষে অবৈধভাবে মহেশপুর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ফেরার চেষ্টাকালে বিজিবির হাতে আটক হন তারা। মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান বলেন, ‘আটককৃতদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।’ এ ব্যাপারে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, আটক সাত ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া আটক চার বাংলাদেশির মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আটক নারী ও শিশুদের যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার সেন্টারে পাঠানো হবে।