গাইবান্ধায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আবারও রোগীকে মারধরের অভিযোগ

গাইবান্ধার গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) পরিচালিত মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে সাগর মিয়া (২৪) নামের আরেক রোগীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে একই কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক রোগীকে মারধরের মামলায় পুলিশের কাছে সাক্ষ্য দেয়ায় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের।এ ঘটনায় শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ৯টার দিকে সাগর মিয়ার বাবা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে আহত অবস্থায় সাগরকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগে জিইউকে-এর নির্বাহী প্রধান এম আবদুস সালামকে (৬৫) প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রটিতে কর্মরত রাফি (৩০) ও সাহানসহ (৩০) তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মাদক নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে সেখানে টর্চার সেল তৈরি করা হয়েছে। সাগর মিয়া একজন মাদকসেবী হওয়ায় এক মাস আগে তাকে ওই কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। এর আগে ওই কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন মুর্শিদ হক্কানী নামের একজনকে নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন সাগর। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা আসামিদের সহকর্মীরা সাগরের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা কেন্দ্রে গেলে প্রথমে তারা সাগরকে দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। পরে চাপ প্রয়োগ করলে অসুস্থ অবস্থায় তাকে সামনে আনা হয়। আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় দিন-রাত্রের তাপমাত্রার ফারাকে হাসপাতালে বেড়েই চলছে রোগী সাগর মিয়া জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে রাত ১০টার দিকে আসামিরা তার দুই হাত-পা বেঁধে মারধর করেন এবং নাকে গরম পানি ঢেলে দেন। এতে তার কোমরের হাড় ও ডান পায়ের হাঁটুর নিচে জখম হয়। পরে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় সাগরকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগকারী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমি ছেলেকে সুস্থ হওয়ার জন্য এখানে ভর্তি করেছিলাম। এখন অসুস্থ অবস্থায় ফিরে নিয়ে আসতে হলো। এই ঘটনার বিচার চাই।’ জানা যায়, এর আগে গত বছরের ২৮ আগস্ট গাইবান্ধা সদর উপজেলার ফারাজীপাড়া গ্রামের মুর্শিদ হক্কানীকে (৩৭) ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মুখের ভেতর কাপড় ঢুকিয়ে লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারধর করেন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে ১১ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। বাড়িতে নেয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে ২৭ ফেব্রুয়ারি তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় মুর্শিদের বড় ভাই আওরঙ্গ হক্কানী বাদী হয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা সদর আমলি আদালত শুনানি শেষে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে অভিযুক্ত পাঁচজন আসামি কারাগারে রয়েছেন। ওই মামলাতেই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন সাগর। নতুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’