আজ ঐতিহাসিক বদর দিবস

আজ ঐতিহাসিক বদর দিবস। এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলিম ইতিহাসের প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ বদর। হিজরি দ্বিতীয় সনের ১৭ রমজান মদিনা থেকে প্রায় ৭০ মাইল দূরে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের লড়াই ‘বদরযুদ্ধ’।ঐতিহাসিক এ যুদ্ধ ছিল অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের লড়াই। ইসলাম ও মুসলিমদের অস্তিত্বের সংগ্রাম। বদর যুদ্ধে আল্লাহ তাআলা অসম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মুসলিম বাহিনীকে বিজয় দান করেন। অস্তিত্বের সংকট থেকে মুসলিম উম্মাহকে মুক্তি দিয়ে অমিত সম্ভাবনার দুয়ারে পৌঁছে দেন। মহান আল্লাহ ইসলামি আদর্শকে আরবের সীমানা অতিক্রম করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও জাতির কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। খুব কম সময়ের মধ্যে তিনি বিশ্বমানবতার কাছে একটি চিরন্তন কালজয়ী জীবনব্যবস্থা ও আদর্শ সমাজকাঠামো উপহার দেন, যা ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। তাঁর জীবনের বিস্ময়কর সফলতা এখানেই। আরও পড়ুন: ইতিকাফের ফজিলত, বিধান ও নিয়ম বদর যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল এক অধ্যায়, যা অসত্যের বিরুদ্ধে আজন্ম সংগ্রামের অনন্ত অনুপ্রেরণা। শুধু ইসলামের ইতিহাসে নয়, বরং মানবজাতির ইতিহাসে এটা অনন্য এক ঘটনা। মহান আল্লাহও পবিত্র কোরআনে এই দিনের স্বীকৃতি দিয়েছেন নানাভাবে। তিনি কোরআনে উভয় পক্ষের শক্তির পার্থক্য, মুসলিম উম্মাহর প্রতি তাঁর অনুগ্রহ এবং কম্পমান একটি অবস্থা থেকে মুসলিম বাহিনীর ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র তুলে ধরেছেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলিমদের যুদ্ধের অনুমতি দেয়ার পর বদর যুদ্ধ ইসলামে প্রথম যুদ্ধের ঘটনা। আল্লাহ তাআলা দ্বিতীয় হিজরির ১২ই সফর যুদ্ধের অনুমতি দিয়ে নাজিল করেন, وَقَاتِلُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلاَ تَعْتَدُواْ إِنَّ اللّهَ لاَ يُحِبِّ الْمُعْتَدِينَ ‘তোমরা আল্লাহ তাআলার পথে সেসব লোকের সাথে লড়াই করো যারা তোমাদের সাথে লড়াই করে (কিন্তু কোনো অবস্থায়ই) সীমালঙ্ঘন করো না। কারণ, আল্লাহ তাআলা সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯০) বদরের এ দিনটিকে আল্লাহ স্মরণীয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللهُ بِبَدْرٍ وَأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ فَاتَّقُوْا اللهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেছেন বদরের যুদ্ধে। অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল। অতএব আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১২৩) যুদ্ধ দিনটিকে ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ ঘোষণা দিনটিকে ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ বা কুফর ও ইসলামের মধ্যে ‘ফয়সালাকারী দিন’ হিসেবে ঘোষণা করে মহান আল্লাহ বলেন, إِن كُنتُمْ آمَنتُمْ بِاللّهِ وَمَا أَنزَلْنَا عَلَى عَبْدِنَا يَوْمَ الْفُرْقَانِ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ وَاللّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ‘যদি তোমাদের বিশ্বাস থাকে আল্লাহর উপর এবং সে বিষয়ের উপর, যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি ফয়সালার দিনে, যেদিন সম্মুখীন হয়ে যায় উভয় সেনাদল। আর আল্লাহ সবকিছুর উপরই ক্ষমতাশীল।’ (সুরা আনফাল, আয়াত : ৪১) একদিকে আল্লাহর নবির সঙ্গে মাত্র ৩১৩ জন মুজাহিদ। তারা প্রায় নিরস্ত্র। অপর পক্ষে অবিশ্বাসীদের নেতা আবু জাহেলের নেতৃত্বে এক হাজার প্রশিক্ষিত সৈন্যের সুসজ্জিত বাহিনী। এ যুদ্ধে মানুষের ধারণাপ্রসূত সব ধরনের চিন্তা ও উপলব্ধির বাইরে গিয়ে আল্লাহতায়ালা অস্ত্রশস্ত্রহীন ইমানদারের অতিক্ষুদ্র দলটিকে বিজয় দান করেন। সেদিন বদরের প্রান্তরে ইমান ও কুফর, ন্যায় ও অন্যায়ের এক নতুন ইতিহাস রচিত হয়, যা শত শত বছর ধরে এক আল্লাহতে বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। মুসলমানরা বিশ্বাস করেন, জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। সম্মান ও অপমান আল্লাহর হাতে। এ বিশ্বাস ও চেতনা লালন করে পৃথিবীর যে প্রান্তে যখনই মুসলমানরা অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, তারা সংখ্যায় বা উপকরণে কম হলেও আল্লাহ তাদের বিজয় দান করেছেন। পক্ষান্তরে আল্লাহর ওপর ভরসাহীন অঢেল সম্পদ ও বিপুল সৈন্য-সামন্তে সজ্জিত মুসলমানদের পরাজয়ের বর্ণনায় ইতিহাসের পাতায় ভরপুর হয়ে আছে। আরও পড়ুন: বিনিময় নিয়ে ইতিকাফ করা জায়েজ? প্রতিবছর ১৭ রমজান এলেই বিশ্ব মুসলিম শ্রদ্ধা ও গৌরবের সঙ্গে বদরের বিজয়কে স্মরণ করে। বদরের শহিদদের স্মরণ করে বিশেষ সম্মানে। আসুন! আজকের দিনে ইসলামের শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মৈত্রীর আলোকে অশান্ত পৃথিবীকে নতুন করে সাজানোর ইমানদীপ্ত শপথ গ্রহণ করি!