বন্যপ্রাণী রক্ষায় ১০ কিলোমিটার হেঁটে ব্যতিক্রমী প্রচারণা

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে ১০ কিলোমিটার পথ হেঁটে প্রচারণা করেছেন পরিবেশকর্মী শফিকুল ইসলাম খোকন। তাঁর এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার ও বন উজাড়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতেই তিনি এ কর্মসূচি গ্রহণ করেন। বিষখালী নদী সংলগ্ন জিনতলা থেকে চরলাঠিমারা, হরিণঘাটা, পদ্মা হয়ে বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে হেঁটে রুহিতা পর্যন্ত এসে শেষ হয়। পথে তিনিসহ অংশগ্রহণকারীরা বন্যপ্রাণী রক্ষার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেন এবং সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করেন। বন্যপ্রাণী সংরণে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড নিয়ে বন ও বন্যপ্রাণী রার আহ্বান জানান। ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে পথসভাও করেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ৭ টায় জিনতলা থেকে শুরু করেন এ প্রচারণা।এ সময় বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড দিয়ে প্রচারণা করেন। স্লোগানগুলো হলো-পাখি না থাকলে প্রাণ হারাবে প্রকৃতি, প্রকৃতির প্রাণ বন্যপ্রাণী-তাদের আমরা রা করি, বন ধ্বংস করলে, বন্যপ্রাণী ধ্বংস হবে, বন্যপ্রাণী রা হলে প্রকৃতি রা হবে, বন্যপ্রাণী সংরণ শুধু দায়িত্ব নয়-একটি মানবিক ও নৈতিক কর্তব্য, বন্যপ্রাণী রা করলে পরিবেশের ভারসম্য রা হবে, প্রাণের অধিকার সবার-বন্যপ্রাণীও তার অংশীদার, শিকার নয়, সচেতনতা বাড়াই, আজ সংরণ, আগামীর নিরাপদ বন্যপ্রাণীর জীবন।তার সঙ্গে সহযোগী ছিলেন মো. সোহাগ আকন, মাইনুল ইসলাম ও শোয়েব তাসিন। শফিকুল ইসলাম খোকন একজন উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী এবং পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রায় আমরা’র (ধরা) পাথরঘাটা উপজেলা কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও শফিকুল ইসলাম খোকন দীর্ঘদিন ধরে উপকূলের জেলে অধিকার, জীবন ও জীবিকা নিয়ে কাজ করছেন।সঙ্গে থাকা সহযোগী সোহাগ আকন ও শোয়েব তাসিন বলেন, ‘আমরা শফিকুল ইসলাম খোকনের কাজে অনুপ্রাণিত হই। সব সময়ই তিনি ভিন্ন এবং ব্যতিক্রমধর্মী নিয়ে কাজ করে থাকেন। তার দেখাদেখি আমরা পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করায় উদ্ভুদ্ধ হয়েছি।’শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী রা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সবাই সচেতন হলে পরিবেশের ভারসাম্য রা করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, প্রকৃতি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। তাই বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’ তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এমন প্রচারণায় এ অঞ্চল বেছে নেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর কোলঘেঁষা হরিণঘাটা বনসহ বন বিভাগের একাধিক বনায়ন রয়েছে। এছাড়াও বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর পাথরঘাটার অংশে পুরোটাই বনায়ন। যে বনে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। এখানকার বাসিন্দারা যাতে বন ও বন্যপ্রাণী সংরণে সচেতন বা সোচ্চার হয় সে কারণেই এখানে প্রচারণা করছি। এটা আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে। আমি আশা করছি স্থানীয়রা বন নিধন বা বন্যপ্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকবে পাশাপাশি প্রতিহতও করবে।’স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আ. রশিদ রাঢ়ি বলেন, ‘বাঘ যদি বলে না থাকে তাহলে যেমন বন থাকবে না, তেমনি বন না থাকলে বন্যপ্রাণীও টিকবে না। বনের কাছের বাসিন্দাদের আগে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিহত করতে হবে।’স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সগির আলম, ইউপি সদস্য শাহ আলমসহ সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন সচেতনতামূলক কর্মসূচি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করবে।