বেহাল দশায় চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল

পদ্মা-মেঘনাবেষ্টিত জনপদ চাঁদপুর। এখানে রয়েছে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার একমাত্র ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। বছরজুড়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিতে ছুটে যান নানা বয়সী রোগী। তবে মৌসুমের এই সময় হাসপাতালে থাকে বাড়তি রোগীর চাপ। তাই নির্ধারিত ওয়ার্ডের শয্যা ছাড়িয়ে রোগীদের অবস্থান করতে হচ্ছে মেঝে কিংবা বারিন্দার করিডোরে।যাদের মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা-ই বেশি। এতে কয়েক গুণ রোগীর চাপে বেহালদশা জেলার একমাত্র সরকারি স্বাস্থসেবার এই হাসপাতাল। ফলে রোগীরা যেমনটা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত। ঠিক একইভাবে চিকিৎসকদেরও সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বাড়তি রোগীর চাপে বেহালদশা চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের। ওয়ার্ডের নির্ধারিত শয্যা ছাড়িয়ে মেঝেতে এমনকি বারিন্দার করিডোরেও অবস্থান করতে হচ্ছে রোগীদের। শিশু ও নারী থেকে শুরু করে পুরুষ পর্যন্ত এমন সব শত শত রোগীকে। এতে হাসপাতালের সব ওয়ার্ডের সেই একই চিত্র। চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোর এমন চিত্র দীর্ঘদিনের। এতে বাড়তি চাপের কারণে কাঙিক্ষত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। ফলে পুরোপুরি সুস্থতা নিয়ে অনেক রোগীকে দেরি করে বাড়িতে ফিরতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে চরম দুর্ভোগ তার সঙ্গে ভোগান্তি। আর বাড়তি রোগীর চাপে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা।এদিকে, বছরের অন্যসময়ের চেয়ে মৌসুমের এই সময় রোগীর চাপ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে শিশু রোগী। তাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছে চিকিৎকদের। জানালেন, শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুল আজিজ। আরও পড়ুন: মতলবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২ বসতঘর ভস্মীভূততিনি বলেন, নির্ধারিত শয্যার চেয়ে প্রতিদিন তিন থেকে চারগুণ শিশু রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে ভর্তি হচ্ছে। আর এমন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়ার্ড এবং শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জানালেন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহাবুবুর রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের বিদ্যমান এমন সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য ওয়ার্ড ও শয্যা সংখ্যা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ চলছে। কিন্তু সহসাই তা সমাধান না হলে, আগামীতে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। এই জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের এমন দুর্ভোগের চিত্র সরেজমিনে দেখতে সম্প্রতি ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি যেকোনো মূল্যে রোগীর দুর্ভোগ এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রোগীর জন্য নির্ধারিত শয্যার চেয়ে তিনগুণ রোগী অবস্থান করছেন। তার বাইরে প্রতিদিন ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার রোগী বহির্বিভাগে স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন।