জলাবদ্ধতা ও মশার উপদ্রবের অন্যতম কারণ হিসেবে খালের দূষণ-দখলকে চিহ্নিত করে এবার জোরেশোরে মাঠে নামছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। উত্তর সিটি বলছে, খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রথমে দেয়া হবে নোটিশ। তাতে কাজ না হলে নেয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাইশটেকি খাল, প্যারিস খাল, সাংবাদিক কলোনি খাল মিলেছে ষাট ফিট খালের সঙ্গে। পাখির চোখে দেখলে এগুলোকে এখন আর কোনোভাবেই খাল বলে চিহ্নিত করা যায় না। দূষণ আর দখলে প্রতিটি খাল পরিণত হয়েছে নালায়। এসব এলাকা পুরোটাই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায়। প্যারিস খালের এক পাশে গড়ে উঠেছে বস্তি। আরেক পাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেটসহ বহুতল ভবন। বেসরকারি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানতো আছেই, সেইসঙ্গে ওয়াসা দখল করেছে খালের একাংশ। এলাকার লোকজন বলছেন, জলাবদ্ধতা তাদের প্রধান সমস্যা। আর সেজন্য দায়ী করছেন খালগুলোর দখল আর দূষণকে। আরও পড়ুন: খাল দখলদারদের আশ্রয় দিলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে: প্রতিমন্ত্রী হাবিব সম্প্রতি প্যারিস খালে গিয়ে দেখা যায়, কালভার্টের নিচে জমে আছে শত শত টন বর্জ্য। দুপাশে অবৈধ স্থাপনা আর বস্তি। ময়লা আর্বজনা ফেলা হয় খালেই। যারা ময়লাগুলো পরিষ্কার করছেন তারা বলছেন, এক সপ্তাহ পরেই আবারও ময়লা জমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে সমাধান কী? ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলছেন, সমাধান আছে৷ যে কোনো মূল্যে উদ্ধার করা হবে খাল। ফিরিয়ে আনা হবে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ। প্রশাসক বলেন, তাদেরকে একটা ব্যবস্থা করে উচ্ছেদ করতে চাই। কারণ মানবিক কারণে এ কাজটা আমাদেরকে করতেই হবে। দীর্ঘদিন ধরে হয়ত অনেকের বাসস্থান নেই। আবার অনেকের বাসস্থান আছে, কিন্তু তবুও অবৈধভাবে তারা স্থাপনা তৈরি করেছে। এক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। দখলদার চিহ্নিত করে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার পরামর্শ নগর পরিকল্পনাবিদদের। আরও পড়ুন: প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে অস্তিত্ব সংকটে রাজশাহীর চার নদ-নদী এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, চক্রের সঙ্গে রাজনীতিবিদ কারা জড়িত ছিলেন, কারা সমাজের প্রভাবশালী ছিলেন-- সংশ্লিষ্ট পুরো চক্রটাকে চিহ্নিত করা দরকার। এ চক্রই সব সময় খাল দখলদারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। এর আগেও একাধিকবার খালের দুপাশ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালিত হয়েছে৷ কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। সুবিধা মতো সময়ে দখলদাররা আবারও ফিরে আসে।