রমজান মাসে সারা দিনের রোজা পালনের প্রস্তুতি শুরু হয় ভোররাতের সেহরি দিয়ে। কিন্তু অনেকেই সময়ের অভাব, ঘুম ভাঙতে না পারা বা ওজন কমানোর ভাবনা থেকে সেহরি না খেয়েই রোজা রাখেন। প্রশ্ন হলো, সেহরি বাদ দিয়ে রোজা রাখা কি আদৌ শরীরের জন্য নিরাপদ? সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কখনো কখনো সেহরি না খেয়েও রোজা রাখতে পারেন। তবে নিয়মিত এমন অভ্যাস শরীরের জন্য সবসময় ভালো নয়। দীর্ঘ সময় না খেলে কী হয় রমজানে সেহরি ও ইফতারের মাঝখানে প্রায় ১২–১৬ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় খাবার ও পানীয় ছাড়া থাকতে হয়। সেহরি না খেলে এই সময়টা আরও দীর্ঘ হয়ে যায়। এতে শরীরে শক্তির ঘাটতি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যারা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন, তাদের ক্ষেত্রে সেহরি বাদ দিলে দিনের মাঝামাঝি সময়েই ক্লান্তি তীব্র হতে পারে। ১. পানিশূন্যতার ঝুঁকি সেহরির সময় শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পানি গ্রহণের সুযোগ থাকে। সেহরি বাদ দিলে দীর্ঘ সময় পানি না খাওয়ার কারণে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এতে মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং কখনো কখনো নিম্ন রক্তচাপের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি, ফল এবং পানি সমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীর দিনভর তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে। ২. রক্তে শর্করার প্রভাব সেহরি না খেলে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে। এতে দুর্বলতা, হাত কাঁপা, অতিরিক্ত ক্ষুধা বা বিরক্তি অনুভূত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পুষ্টি সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় না খেলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে, বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা মেটাবলিক সমস্যা আছে। কারা বেশি ঝুঁকিতে কিছু মানুষের জন্য সেহরি না খেয়ে রোজা রাখা অন্যদের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যেমন - >> ডায়াবেটিস রোগী>> গর্ভবতী নারী>> দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি>> অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করেন এমন মানুষ এ ধরনের ক্ষেত্রে সেহরি বাদ দেওয়া উচিত নয়। সেহরিতে কী খাওয়া ভালো বিশেষজ্ঞরা সেহরিতে এমন খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন যা ধীরে ধীরে শক্তি দেয়। যেমন - জটিল কার্বোহাইড্রেট (ওটস, লাল চাল, রুটি), প্রোটিন (ডিম, ডাল, দই), ফল, শাকসবজি ও পর্যাপ্ত পানি। সুষম সেহরি শরীরকে দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে সাহায্য করে এবং ক্লান্তি কমায়। সেহরি না খেয়ে রোজা রাখা মাঝে মাঝে সম্ভব হলেও এটি নিয়মিত করা শরীরের জন্য আদর্শ নয়। সেহরি শরীরকে দীর্ঘ সময়ের উপবাসের জন্য প্রস্তুত করে, শক্তি ও পানির ঘাটতি কমায় এবং রোজা পালনকে তুলনামূলক সহজ করে তোলে। তাই সুস্থভাবে রোজা রাখতে চাইলে সেহরি বাদ না দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশন, হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ এএমপি/এমএস