ভয়াবহ পতনের বাজারে পচা শেয়ারের দাপট

গত সপ্তাহজুড়ে দেশের শেয়ারবাজারে ভয়াবহ দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহজুড়ে মাত্র ৫৯টি প্রতিষ্ঠানেরে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২৫টির। এমন পতনের বাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে পঁচা শেয়ার বা ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানি। দাম বাড়ার শীর্ষ ১০টি স্থানের সবগুলো দখল করেছে ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ‘এ’, ‘বি’, ‘এন’ এবং ‘জেড’ গ্রুপে বিভক্ত করা হয়। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে রাখা হয় ‘এ’ গ্রুপে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানি থাকে ‘বি’ গ্রুপে, এ ধরনের কোম্পানিগুলো মাঝারি মানের হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানিটির ঠিকানা হয় ‘জেড’ গ্রুপে, এ ধরনের কোম্পানিগুলোকে পচা কোম্পানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি থাকে ‘এন’ গ্রুপে। গত সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চাহিদার শীর্ষে ছিল প্রিমিয়ার লিজিং। লোকসানে নিমজ্জিত হওয়ায় ২০১৮ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। এই কোম্পানির শেয়ারের দাম গত সপ্তাহে বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৮০ পয়সা। গত সপ্তাহের লেনদেনের শুরুতে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১ টাকা ৮০ পয়সা, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৬০ পয়সা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজার ২১০টি। এতে এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ১০ কোটি ৬৩ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৮ টাকা। দাম বাড়ার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৭০ পয়সা। লোকসানে পতিত হওয়ায় ২০১৬ সালের পর এই কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দেয়নি। স্বাভাবিকভাবেই কোম্পানিটির স্থান হয়েছে পচা জেড গ্রুপে। পরের স্থানা রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স। ২০১৮ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে পারেনি। গত সপ্তাহে এই কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৭০ পয়সা। ২০১৪ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে না পারা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এর শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ। ২০১৮ সালের পর থেকে লভ্যাংশ দিতে না পারা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এর শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। দাম বাড়ার তালিকায় পরের স্থানটিতে থাকা ফ্যামিলি টেক্সের শেয়ার দাম বেড়েছে ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ। এই কোম্পানিটি ২০১৮ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ২০১৬ সালের পর কোনো লভ্যাংশ দিতে না পারা তুং হাই নিটিংয়ের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। নূরানী ডাইং অ্যান্ড সোয়েটারের শেয়ার দাম বেড়েছে ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ২০২০ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ২০২৩ সালের পর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে না পারা জেনারেশন নেক্সট এর শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ। ২০১৬ সালের পর কোনো লভ্যাংশ না দেওয়া অ্যাপোলো ইস্পাতের শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। এমএএস/​এএমএ