সীমান্ত পথে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা, পঞ্চগড়ে কঠোর অবস্থানে বিজিবি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকট দেখিয়ে অস্থিরতা ও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তেল পাচার প্রতিরোধে পঞ্চগড় সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন সীমান্তের পাশাপাশি বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও ভারতের ফুলবাড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কঠোর তৎপরতা দেখা গেছে। এদিন দুপরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিজিবির ডগস্কোয়াটসহ আমদানি-রফতানির সকল যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে বিজিবি। সাথে সীমান্ত এলাকায় কঠোর দায়িত্ব পালন করেন তারা। আরও পড়ুন: নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে কাঠুরিয়ার পা বিচ্ছিন্ন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিজিবি জানায়, বিশ্বব্যাপী চলমান বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্য পার্থক্যের সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র সীমান্তপথে তেল পাচারের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ধরনের সম্ভাব্য অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে পঞ্চগড় সীমান্তে বিজিবি সতর্কতা ও নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনার আলোকে পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন (১৮ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন যানবাহন ও মালামালের ওপর কঠোর তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়াও সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ বিষয়ে পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস সময় সংবাদকে জানান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, ভুটান ও নেপাল থেকে আসা পাথরবাহী ট্রাকসমূহের ওপর বিজিবি নিবিড় নজরদারি ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বন্দরে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় ট্রাকগুলোকে অধিক সতর্কতার সাথে তল্লাশি করা হচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পরিবহন বা পাচারের সুযোগ না থাকে। আরও পড়ুন: রাঙ্গামাটিতে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান একই সাথে তিনি আরো জানান, দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীটি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। একই সাথে সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।