সর্বশেষ বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলতে বাংলাদেশে এসেছিলেন জেমস নিশাম। বর্তমানে নিউজিল্যান্ড দলের সঙ্গে ভারতে আছেন বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ খেলার অপেক্ষায়। বিপিএল চলাকালে সময় সংবাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের ব্যস্ততা, বাংলাদেশের ক্রিকেট, কন্ডিশন নিয়ে আলাপ করেছেন। সাক্ষাৎকারে নিশাম আরও কথা বলেছেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ এবং তারকা ব্যাটার কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে।সময় সংবাদ: বিশ্বের প্রায় সব নামিদামি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেছেন। সবগুলোর মধ্যে বিপিএলকে কোন অবস্থানে রাখবেন? নিশাম: ওপরের দিকেই থাকবে। এখানকার দলগুলো ভালো মানের বিদেশি খেলোয়াড় নিয়ে আসার জন্য অনেক চেষ্টা করে। ক্রিকেটের মান এখানে অনেক উন্নত এবং বিপিএল খেলাটা আমি সবসময়ই উপভোগ করি।বিভিন্ন লিগে অংশ নিতে প্রচুর ভ্রমণ করতে হয়। শারিরীক এবং মানসিকভাবে কতটা চ্যালেঞ্জিং?নিশাম: এটা তেমন কঠিন কিছু নয়। আমরা এখন অনেক সুবিধা পাই। বেশিরভাগ সময়ই বিজনেস ক্লাস টিকিটে আরামদায়ক আসনে শুয়ে ভ্রমণ করি। নিউজিল্যান্ড বেশিরভাগ দেশ থেকে অনেকটা দূরে। যদি আমি প্রচুর ক্রিকেট খেলতে চাই, ভ্রমণ করতেই হবে। জিমি নিশাম। ছবি: এপিসময় সংবাদ: অনেক বিদেশি ব্যাটারই বলে থাকেন, বাংলাদেশে খেলা খুব কঠিন। উইকেট একদমই ব্যাটিং সহায়ক না। তবে ডেভিড মালান বলেছেন, স্পিন বলে ভালো খেলার জন্য যে কাউকে বাংলাদেশে এসে খেলতে উপদেশ দেবেন। আপনি কি একমত? আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকার নিউজিল্যান্ড সফরের দলে এক পরিবর্তননিশাম: অনেক বিদেশি ব্যাটারের জন্য এটা খুব আলাদা। আমি প্রথমবার এসেছিলাম ২০১৩ বা ১৪ সালে। এখানে স্পিন খেলার ধরনটা সম্পূর্ণ আলাদা—খুব লো হয়ে থাকতে হয়, বল স্কিড করে আর বাউন্সটাও অনিশ্চিত। নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ায় তো বাউন্স নিয়ে খেলা যায়, লং-অনের ওপর মারা যায়। কিন্তু এখানে সেটা কাজ করে না। এখানে সুইপ, রিভার্স সুইপ, স্ট্রাইক রোটেট করা—এসব বেশি দরকার। তাই মালানের সাথে একমত—যদি কোনো তরুণ ক্রিকেটার স্পিন বল খেলা শিখতে চায়, বাংলাদেশ দারুণ জায়গা। সময় সংবাদ: আন্তর্জাতিক এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মুস্তাফিজুর রহমানকে অনেকদিন ধরে দেখছেন। বিশ্বের সব টি-টোয়েন্টি বোলারদের মধ্যে তাকে কোথায় রাখবেন? নিশাম: খুব ভালো বোলার। অনেকদিন ধরেই ভালো খেলছে। সবসময় ভালো ফলাফল এনে দেয়। ওর বিরুদ্ধে খেলার সময় সাবধানে পা ফেলতে হয়। আইপিএল নিলামে দেখেছি- সারা বিশ্বে তার চাহিদা আছে, ভালো খেলোয়াড় বলেই। সময় সংবাদ: বাংলাদেশ দলকে অনেক দেখেছেন, এখানে খেলেছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে অন্য লিগগুলোতেও খেলেছেন। টি-টোয়েন্টিতে উন্নতি করার জন্য বাংলাদেশের এখন কী করা উচিত বলে মনে করেন?নিশাম: বাংলাদেশ দল সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। ওরা নিউজিল্যান্ড থেকে অনেক দূরে, আমাদের গ্রুপেও (বিশ্বকাপে) নেই। তাই ওদের নিয়ে ভাবি না। সময় সংবাদ: কোনো বিশেষ খেলোয়াড়, আপনার মনে হয় বিশ্বকাপে ভালো করতে পারে?নিশাম: দুঃখিত, বাংলাদেশ দল নিয়ে তেমন ধারণা নেই। সময় সংবাদ: খোঁজ রাখা হয় না তেমন...নিশাম: না, আমি বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে বিশ্লেষণ করি না যে কে ভালো, কে খারাপ। আমি শুধু খেলি। আমার কাজ এটাই।সময় সংবাদ: দুটো বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরেছেন, ২০১৯ আর ২০২১। এগুলো কি ব্যথা দেয়, নাকি ভুলে যান? নিশাম: এটা ব্যথার চেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা যোগায়। বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টগুলো ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জিনিস। আমরা গত ১০-১২ বছরে অনেক ভালো করেছি। ট্রফি জিততে না পারাটা একটু কষ্ট দেয়, কিন্তু প্রত্যেক টুর্নামেন্ট নতুন সুযোগ। সময় সংবাদ: ২০১৯ বিশ্বকাপের পর আপনার একটি টুইট খুব ভাইরাল হয়েছিল যেখানে বাচ্চাদের আপনি ক্রিকেটকে বেছে নিতে নিষেধ করেছেন। সেই সময়ের মানসিক অবস্থা কী ছিল?নিশাম: আমরা হেরে খুব হতাশ ছিলাম। টি-টোয়েন্টির দুনিয়াটা এরকমই। আমি একটু মজা করেছিলাম, ভাবিনি সাত বছর পরেও এটা নিয়ে প্রশ্ন করা হবে। সময় সংবাদ: কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে কয়েকটি ফাইনালে খেলেছেন, সবগুলোতেই হেরেছেন। তার মানসিক অবস্থান কেমন হয় এরকম পরিস্থিতিতে, কখনো এসব নিয়ে কথা হয়?আরও পড়ুন: ‘মানুষ’ বুমরাহর খারাপ দিনের অপেক্ষায় ফিলিপসনিশাম: কেন (উইলিয়ামসন একদমই সাদাসিধে। শান্ত থাকে, নিজের খেলাটা খেলে, ফলাফল নিয়ে বেশি চিন্তা করে না। পরিস্থিতি বুঝে সেরাটা খেলার চেষ্টা করে। আশা করি ক্যারিয়ারের শেষে কিছু একটা জিতবে। সে অনেক বছর ধরে আমাদের নেতা। আশা করি আরও কয়েক বছর খেলবে।সময় সংবাদ: উইলিয়ামসনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষের দিকে। তার সামগ্রিক ক্যারিয়ারকে কিভাবে দেখেন, নিউজিল্যান্ডের সেরা ব্যাটার মানেন? নিশাম: এটা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। তাকে আর রিচার্ড হ্যাডলিকে নিউজিল্যান্ডের সেরা দুই ব্যাটারের তালিকায় রাখা যায়। কেন টি-টোয়েন্টি আর খেলে না, যাতে টেস্ট আর ওয়ানডের জন্য শরীরকে ফিট রাখতে পারে। সে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের বড় সম্পদ। আশা করি, পরের ৩-৪ বছরেও অনেক রান করবে।