সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চাঁদপুরে জ্বালানি তেল বিক্রিতে চরম নৈরাজ্য শুরু করেছে স্থানীয় কয়েকটি ফিলিং স্টেশন। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে শহরের ‘আমির হোসেন অ্যান্ড কোম্পানি’সহ বেশ কিছু স্টেশনে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নিজেদের ইচ্ছেমতো ‘রেশনিং’ পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে পাম্প কর্মচারীদের সাথে চালকদের হাতাহাতি ও অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।সরেজমিনে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় শহরের আমির হোসেন অ্যান্ড কোম্পানি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রিজার্ভারে পর্যাপ্ত অকটেন মজুত থাকলেও তা বিক্রি করা হচ্ছে না। অন্যদিকে, প্রতি মোটরসাইকেলের জন্য মাত্র ২ লিটার পেট্রোল বরাদ্দ করে রেশনিং করা হচ্ছে।এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন দম্ভোক্তি করে বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তে আমাদের কিছু আসে যায় না। দেশে তেলের সংকট চলছে, তাই আমরা নিজেদের নিয়মেই রেশনিং করছি। তেল বিক্রি করব কি করব না, সেটি আমাদের একান্ত বিষয়।তেল সংকটের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিপো ইনচার্জ লোকমান হোসেন। তিনি জানান, ডিপোসহ কোথাও জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।আরও পড়ুন: তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, ৯ তারিখ আরও ২টি ভেসেল আসছে: জ্বালানিমন্ত্রীএদিকে, সংকটের খবর পেয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদউদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, অযৌক্তিকভাবে কোনো ফিলিং স্টেশন তেল আটকে রাখলে বা রেশনিং করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমির হোসেন অ্যান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।চাঁদপুর জেলায় মোট ১৫টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। প্রায় সবকটিতেই একই চিত্র দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যানবাহন চালক ও কৃষকরা। চাহিদামতো তেল না পেয়ে অনেক চালককে দীর্ঘ সময় পাম্পে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এই অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা হোক।