নরসিংদীর মাধবদীতে চাঞ্চল্যকর কিশোরী হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বিরক্ত হয়ে সৎ বাবা আশরাফ আলী একাই তাঁর মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সঙ্গে হত্যার আগে ওই কিশোরীকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর তথ্যও বেরিয়ে এসেছে।শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।পুলিশ জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মাধবদীর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা খেত থেকে ওই কিশোরীর ওড়না পেঁচানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, সৎ বাবা আশরাফ আলী (৪৫) পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে মেয়েটিকে তাঁর এক সহকর্মী সুমনের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে নির্জন স্থানে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি একাই কিশোরীকে হত্যা করেন।আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আশরাফ আলী জানান, মেয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, হত্যার ১০ থেকে ১২ দিন আগে (১০ ফেব্রুয়ারি) হযরত আলী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ওই কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এতে জড়িত ছিলেন হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার। এছাড়া কিশোরীর কথিত প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরাও (২৮) তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।আরও পড়ুন: নরসিংদীতে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেফতারএই ঘটনায় নিহতের মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত প্রধান আসামি নুরা ও ঘাতক সৎ বাবা আশরাফ আলীসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতাররা হলেন- নরসিংদীর মাধবদী থানার কোতয়ালীরচর এলাকার শাহজাহানের ছেলে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), একই এলাকার মৃত সাহাবুদ্দিন এর ছেলে এবাদুল্লাহ (৪০), হান্নান মুন্সির ছেলে হযরত আলী (৪০), একই এলাকার গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান (৬৫) ও তার ছেলে মোঃ ইমরান দেওয়ান (৩২), মোঃ আজগর আলীর ছেলে মোঃ আইয়ুব (৩০), মৃত শাহজাহান এর ছেলে ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০) ও নিহতের সৎ পিতা মো. আশরাফ আলী (৪০)।গ্রেফতারদের মধ্যে সৎ বাবা আশরাফ আলী ছাড়াও নূর মোহাম্মদ নুরা এবং হযরত আলী বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।