ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইফতার মাহফিলে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নে বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অতিথি করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আহতদের স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিনাউটি ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে তিনলাখপীর বাজারে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ইফতার মাহফিলে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে বক্তব্য চলাকালে হঠাৎ করে কবীর আহমেদ ভূইয়ার সমর্থক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক স্বপনের নেতৃত্বে ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা অতিথি নিয়ে আপত্তি জানায়। এসময় মুশফিকুর রহমান গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাদের সাথে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে ইফতার শুরুর ৫ মিনিট আগে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনার স্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধশত এদিকে জেলা বিএনপি নেতা কবীর আহমেদ ভূইয়ার অনুসারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক স্বপন জানান, উপজেলা বিএনপির এবং ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির ইফতারের আয়োজন করা হয়। ইউনিয়ন বিএনপির ব্যানারে সিনিয়র নেতাকর্মীদের কারো নাম নেই। যার কারণে ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। পরে সেখানে হট্টগোল হয়। এ সময় মুশফিকুর  রহমান গ্রুপের হামলায় তাদের ৫ নেতাকর্মী আহত হন বলে দাবি করেন তিনি। অপরদিকে মুশফিকুর গ্রুপের অনুসারী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান দিপু জানান, ইফতার মাহফিলে বালুমহল নিয়ে কথা বলার পর একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। পরে  ইফতার মাহফিলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক স্বপনের নেতৃত্বে একদল লোক হামলা চালায়। পরে পাল্টা হামলায় পাঁচজনের মতো আহত হয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জিতু মেম্বার হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান, ইফতার মাহফিলের ব্যানারে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক স্বপনের নাম না থাকায় তিনি এবং তার সমর্থকেরা ক্ষুব্ধ হন। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।