চোখের সামনে স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রীর আর্তনাদে ভারি মর্গ প্রাঙ্গণ

চাঁদা না দেয়ায় স্বামী গণেশ পালের (৩৫) মৃত্যুতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে কান্না যেন কিছুতেই চেপে রাখতে পারছেন না স্ত্রী নেপালী। চোখের সামনে দেখেছেন স্বামীর নির্মম হত্যাকাণ্ড। ভয়াবহ সেই দৃশ্য কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তিনি। শোকে কাতর পরিবারের অন্য সদস্যরাও।শনিবার (০৭ মার্চ) দুপুরে শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় চাঁদা না দেয়ায় ওই ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর থেকে জড়িতরা পলাতক থাকলেও তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। নিহত গণেশ পাল কক্সবাজার শহরের বিজিবি এলাকার বিশ্বনাথ পালের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন।আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ছুরিকাঘতে গ্যারেজ মালিক খুননিহত গণেশ পালের স্ত্রী নেপালী বলেন, ‘শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ঘরে এসে জিশান চাঁদা দাবি করেন। এরপর শনিবার সকাল ১০টায় আবার ঘরে এসে আমার স্বামী গণেশ পাল কোথায় জিজ্ঞেস করেন। তখন স্বামী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন। পরে দুপুরে আমার স্বামী ঘরে ফিরলে জিশান এসে চাঁদা চান। আর চাঁদা দিতে না পারায় পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। সব কিছু ঘটে গেছে আমার চোখের সামনে। কিছুতেই ভুলতে পারছি না। পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়ার সময় কেউ আমার স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। এমনকি ঘরের নির্মাণ কাজ করছিল মিস্ত্রিরা, তারাও এগিয়ে আসেনি। এখন আমার কি হবে, আমার বাচ্চাদের কি হবে?’স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নিজ বাড়ির ড্রেন নির্মাণের কাজ করছিলেন গণেশ পাল। একই এলাকার জিসান নামে এক যুবক তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জিসানসহ অজ্ঞাতনামা আরও চারজন মিলে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একপর্যায়ে গণেশ পালের পেটের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান তারা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য গনেশ পালের মরদেহ রাখা হয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে।আরও পড়ুন: কক্সবাজারে চাঁদা না দেয়ায় যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যাএ দিকে সন্ধ্যায় গণেশ পাল হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধরা।তারা বলেন, ‘এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে পায়নি বলে এভাবে মানুষ হত্যা করবে এটা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। প্রশাসনের প্রতি দাবি থাকবে, এ হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের দ্রুত যেন গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা হয়।’এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবব্রত মজুমদার বলেন, ‘নিহত ব্যক্তি গণেশ পাল। তিনি নিজ বাড়ির ড্রেন নির্মাণের কাজ করছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, ওই স্থানে গিয়ে জিসান নামে এক যুবক তার কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে সেখানেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’