পাকিস্তান সিরিজ শুরুর আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে বিসিএলে পারফর্মারদের নিয়ে সাজানো অল স্টার একাদশের মুখোমুখি হয় বিসিবি একাদশ। প্রস্তুতি নেওয়ার মঞ্চে সেঞ্চুরি করেছেন ওপেনার তানজীদ হাসান তামিম। দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেনরা রান পেয়েছেন। সহজেই জিতেছে পাকিস্তান সিরিজের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে সাজানো বিসিবি একাদশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার অল স্টার একাদশকে ৪০ রানে হারিয়েছে বিসিবি একাদশ। আগে ব্যাটিং করে ২৯৫ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ১০০ রানের ইনিংস খেলেন তামিম। এছাড়া লিটনের ব্যাট থেকে ৪৪ আর আফিফ করেন ২৯ রান। জবাবে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রানে থামে অল স্টারের ইনিংস। এদিন টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বিসিবি একাদশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ইনিংসের শুরুতে সতর্ক থাকা সাইফ হাসান ও তামিমের জুটি ভাঙে ১৪তম ওভারে, উদ্বোধনী জুটিতে তখন স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৫৭ রাঙ। ৪৭ বলে ২২ রান করেন সাইফ। তিন নম্বরে নামা সৌম্য সরকার ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১১ রান করতে খরচ করেন ২২ বল। তবে তার সঙ্গে তামিমের জুটি ছিল ৪৯ রানের। এরপর উইকেটে এসে ইতিবাচক খেলতে থাকেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার ব্যাটিংয়ে অনেকটাই চাপ কমে তামিমের উপর। যদিও ভালো খেলতে খেলতে ফিফটির আগেই বিদায় নেন তিনি। ৪৫ বলে ৪০ রানে শান্ত আউট হলে ভাঙে তামিমের সঙ্গে ৭৩ রানের জুটি। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডেতে লাগাতার ব্যর্থ হওয়া লিটনকে পাকিস্তান সিরিজে মিডল অর্ডারে খেলানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেখানে আজ ভালো ছন্দে ছিলেন তিনি। ৩৮ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৪৪ রাঙ করেন এই লিটন। অন্যপ্রান্তে যখন বাকিরা উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস লম্বা করতে পারছেন না তামিম একাই একপ্রান্ত আগলে রাখেন। ১০০ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই বাহাতি ওপেনার। যেখানে তার এই ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার ও ৪টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কায়। প্রায় দেড় বছর পর ওয়ানডেতে দলে ফেরা আফিফও ছন্দে ছিলেন, তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি। এই বাহাতির ব্যাট থেকে আসে ২৯ বলে ২৯ রান। শেষদিকে ১৭ বলে ২৪ রান করেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। বিসিএল অল স্টারসের হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন পেসার রিপন মন্ডল। ১০ ওভারে ৪৯ রান খরচায় ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন তিনি। এছাড়া তানভীর ইসলাম ১টি এবং আব্দুল গাফফার ১টি করে উইকেট নেন। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বিসিএল অল স্টারস শুরুটা ভালোই করেছিল। ওপেনার জিসান আলম ৬৭ বলে ৫০ এবং নাইম শেখ ৫৩ বলে ৪০ রান করে ভালো ভিত্তি গড়ে দেন। তবে মিডল অর্ডারে রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানার তোপের মুখে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় তারা। শেষ দিকে রিপন মন্ডল ৪৮ বলে ৩৯ এবং আব্দুল গাফফার ৪৮ বলে ৪৯ রান করে হারের ব্যবধান কমান। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৫৫ রানে থামে অল স্টারসের ইনিংস। বিসিবি একাদশের হয়ে রিশাদ হোসেন ১০ ওভারে ৪০ রান খরচায় একাই শিকার করেন ৫টি উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা ১০ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট এবং শরিফুল ইসলাম ৯ ওভারে ৫৯ রানে ১টি উইকেট পান। সংক্ষিপ্ত স্কোর:বিসিবি একাদশ: ২৯৫/৮ (৫০ ওভার); তামিম ১০০ (১০১), লিটন ৪৪ (৩৮), শান্ত ৪০ (৪৫)। রিপন ৩/৪৯। বিসিএল অল স্টারস: ২৫৫/৯ (৫০ ওভার); গাফফার ৪৯ (৪৮), জিসান ৫০ (৬৭), নাইম ৪০ (৫৩)। রিশাদ ৫/৪০, নাহিদ রানা ২/৪৫। ফল: বিসিবি একাদশ ৪০ রানে জয়ী। এসকেডি/এমকেআর