মুন্সীগঞ্জে ডিজেলের ‘কৃত্রিম সংকট’, বোরো চাষে ব্যাঘাতের আশঙ্কা

মুন্সীগঞ্জে চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ৫২৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। বিলে স্থাপন করা নলকূপের মাধ্যমে এসব জমিতে সেচ দেয়া হয়, যার বেশিরভাগই ডিজেলচালিত। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে তেলের সংকটের আশঙ্কায় অতিরিক্ত তেল কেনার হিড়িক পড়েছে, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি খাতেও।অভিযোগ রয়েছে, বোরো সেচের জন্য পাম্প ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল কিনতে না পারায় জমিতে ঠিকমতো পানি সরবরাহ করতে পারছেন না। লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের বনসামন্ত গ্রামের প্রবীণ কৃষক লতিফ শেখ জানান, স্থানীয় পাম্পে গিয়েও ডিজেল কিনতে পারছি না। লিটারপ্রতি ১০০ টাকার ডিজেল খোলা বাজার থেকে ১৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) তিনি ডিজেল কিনেছিলেন ১২০ টাকা লিটার দরে, আর শনিবার তা বেড়ে ১৩০ টাকায় পৌঁছেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ডিজেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ানো হচ্ছে। স্থানীয় সাকুরা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে ডিজেল না পেয়ে ফিরে এসেছি। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। আমার মতো অনেক বোরো চাষি এখন বিপাকে পড়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, জেলায় মোট ২ হাজার ২০২টির মধ্যে ১ হাজার ৮২১টি নলকূপই ডিজেলচালিত। এর মধ্যে ডিজেলচালিত অগভীর নলকূপ ১৮২০টি, ডিজেল চালিত গভীর নলকূপ ১টি। আর বিদ্যুৎচালিত অগভীর নলকূপ ৩৭৩, বিদ্যুৎচালিত গভীর ৭টি। আরও পড়ুন: দেশে মজুত ডিজেল-পেট্রল-অকটেনে কতদিন চলবে? জেলায় চলতি বছর ২৪ হাজার ৬১৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ৫২৯ হেক্টর জমিতে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া বোরো চাষ চলবে চলতি মার্চ মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত। বাকি এক সপ্তাহে ৪ হাজার ৮৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। যদি কোনো সংকট তৈরি হয়, তাহলে সেটি অবশ্যই চিন্তার বিষয় হবে। তবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো সমস্যা নেই। রোববার (৮ মার্চ) সরেজমিন পরিদর্শনের পর এ বিষয়ে আপডেট জানানো যাবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বোরো আবাদ নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি। মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী জানান, জেলায় ডিজেলের কোনো সংকট নেই। বর্তমানে জেলায় মোট ৪৬ হাজার ৮০৯ লিটার ডিজেল মজুত রয়েছে। জেলার ১৯টি পেট্রোল পাম্পেই পর্যাপ্ত ডিজেল আছে। এর মধ্যে লৌহজং উপজেলায় ১১ হাজার লিটার, শ্রীনগরে ৭ হাজার লিটার, টঙ্গিবাড়িতে সাড়ে ৫ হাজার লিটার, সিরাজদিখানে ১১ হাজার ৩১৮ লিটার এবং গজারিয়া উপজেলায় ১১ হাজার ৯১১ লিটার ডিজেল মজুত রয়েছে। বোরো চাষে যাতে ডিজেল পেতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, বোরো ধান চাষে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে ইউএনওদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে। ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।