দখলদারদের নিজ উদ্যোগে সরার নির্দেশ, ক্ষতির দায় নেবে না সরকার

যারা খাল দখল করে সেখানে বাড়ি বা অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করেছেন তাদের নিজের উদ্যোগে সরে যেতে হবে। না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে, আর সেই কারণে কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হলে সরকারি সংস্থা দায়ী থাকবে না। এমন নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।রাজধানীর মান্ডা খাল এলাকার মানুষরা প্রতিদিনের গৃহস্থালি বর্জ্য থেকে শুরু করে অন্যান্য ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য খাল ব্যবহার করেন। কিন্তু ময়লা ফেলার কারণে খালটি এখন নষ্ট অবস্থায়, এমনকি এর ওপর দিয়ে হাঁটাচলাও করা যায়। দখলদাররাও থেমে নেই; নিজেদের সুবিধার জন্য খালের জায়গায় রাস্তা বানিয়ে খালকে সরু করে দিয়েছেন। অনেক জায়গায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। দূষিত এই খালে মানুষ হেঁটে চলছেন, পাড়ার কিশোরেরা খেলায় মেতে উঠেছে। আদতে এটি একসময় স্বচ্ছজলের মান্ডা খাল ছিল। ঢাকার দক্ষিণ সিটির অনেক খাল মানুষের লোভ এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে হারিয়ে গেছে। খালের প্রস্থ কোথাও চল্লিশ ফিট, কোথাও ৩০, কোথাও ২০ আবার কোথাও আরও কম। রাজধানীর অন্যান্য খালও দখল এবং দূষণে আক্রান্ত। প্রশ্ন হচ্ছে, ঢাকার খালগুলো কি সত্যিই দখলমুক্ত করা সম্ভব? খালগুলো দূষণ ও দখলমুক্ত করার উদ্যোগ এরমধ্যেই নেয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী  হাবিবুর রশিদ হাবিব বললেন, এটি ধাপে ধাপে অগ্রগতি হবে। তিনি নিজে এই এলাকার জনপ্রতিনিধি। আরও পড়ুন: খাল দখলদারদের আশ্রয় দিলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে: প্রতিমন্ত্রী হাবিব প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যারা অবৈধ দখলদার, তারা নিজেদের বাড়িঘর নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিন। না হলে প্রশাসন এগুলো সরালে যে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন, তাতে আমাদের কিছু করার থাকবে না। অবৈধ দখলদাররা রাষ্ট্রের সম্পত্তিকে ক্ষতি করছে এবং রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কেউ যেন খাল দখল করতে না পারে, তার জন্য টেকসই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘ধীরে ধীরে খালগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। জনগণকেও বলা হবে সরকারি সম্পত্তি যাতে কেউ জবরদখল না করে। যারা এরমধ্যেই দখল করেছে, তাদের নিজে সরিয়ে দিতে হবে, না হলে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হবে।’ নগর পরিকল্পনাবিদরা বলেন, শুধু উচ্ছেদ নয়, দখলকারীদের আর্থিক জরিমানা করা উচিত। অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘যারা বহুতল ভবন করেছে তাদেরকে বড় পেনাল্টি দিতে হবে। পেনাল্টি দেখলে ভবিষ্যতে কেউ ভাববে না যে আমিও দখল করতে পারি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যদি খালকে জীবন্ত সত্তা মনে করা হয়, তাহলে দখলদারদের জেলদণ্ড দেয়া উচিত।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দখল ও দূষণমুক্ত করলেই হবে না, খালের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ বজায় রাখতে অব্যাহত নজরদারি করা জরুরি।