যুক্তরাষ্ট্র ইরানের হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে প্রথমবারের মতো একটি ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট তথা পানি শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এর গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে।বিবিসির প্রতিবেদন মতে, শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই ভয়ঙ্কর ও উন্মত্ত অপরাধ ৩০টি গ্রামের পানির সরবরাহকে প্রভাবিত করেছে’। সামাজিক মাধ্যম এক্সে আরাঘচি লিখেছেন, ‘ইরানের অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ, যার গুরুতর পরিণতি রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই নজির সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান নয়।’ তবে এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মিয়ামিতে ইরানের অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তিনি এ বিষয়ে ‘কিছুই জানেন না’। আরও পড়ুন: যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা প্রত্যাখ্যান, ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকি ট্রাম্পের এদিকে সংঘাত শুরুর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও লড়াইয়ের গতি কমেনি। আজ রোববার (৮ মার্চ) ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন নবম দিনে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত শনিবার প্রথমবারের মতো তারা তেহরানের তেল সংরক্ষণাগার ও তেল পরিশোধনাগারে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় আগুন লাগেছে। হামলা চালানো হয় পানি শোধনাগারেও। হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, অনেক মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে এবং জরুরি সহায়তার জন্য সাহায্যের আবেদন দ্রুত বেড়ে গেছে। আরও পড়ুন: ইরানের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বৈঠক নিয়ে যা জানা গেল এদিকে তেল শোধনাগারে হামলার জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেছেন, যুদ্ধ শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে মূল্য দিতে হবে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও বিবিসি