একাধিক তেল শোধনাগারে হামলা হওয়ার দাবি করেছে ইরান। হামলা হয়েছে একটি পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টেও। জবাবে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কিছুই জানেন বলে মন্তব্য করেছেন।ফার্স নিউজ জানিয়েছে, হামলার শিকার হওয়া ডিপোগুলোর মধ্যে দুটি শারান ও শাহর রে। এগুলো তেহরানের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় অবস্থিত। ভিডিওতে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। তেহরানের কাছাকাছি কারাজ শহরের একটি তেল শোধনাগারেও হামলা হয়েছে।আল জাজিরা জানিয়েছে, তেল শোধনাগারে হামলার পেছনে মূলত দুটি উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এক, আতঙ্ক সৃষ্টি করা। দুই, এসব হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক বাহিনীর চলাচল বিঘ্নিত করা। তেল শোধনাগারগুলো ইরানের জ্বালানি সরবরাহ ও সামরিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।হামলা হওয়া পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টের অবস্থান দেশটির কেশম দ্বীপে। এই প্ল্যান্টের মাধ্যমে ৩০টি গ্রামে মিঠা পানি সরবরাহ হয়ে থাকে। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।আরও পড়ুন: পানি শোধনাগারে হামলার অভিযোগ ইরানের, ট্রাম্প বললেন, ‘কিছুই জানেন না’সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেশম দ্বীপের একটি মিঠা পানির ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালিয়ে স্পষ্ট অপরাধ করেছে। এতে ৩০টি গ্রামের পানির সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের অবকাঠামোতে হামলা একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ, যার বড় ধরনের পরিণতি হতে পারে। এই নজির যুক্তরাষ্ট্রই স্থাপন করেছে, ইরান নয়।’বিশ্লেষকদের মতে, ‘নজির’ শব্দটি ব্যবহার করে ইরান হয়তো একই ধরনের পাল্টা হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো তাদের পানির প্রায় ৯০ শতাংশই ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের মাধ্যমে পায়। তাই এসব স্থাপনায় হামলা হলে পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।